তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ছবি সংগৃহীত।
হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ, স্বস্তি পেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। টেলিভিশন চ্যানেল আয়োজিত বিতর্কসভায় বিজেপি নেতা তথা মোদী সরকারের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তাঁর সম্পর্কে ‘মর্যাদাহানিকর’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বাবুলের বিরুদ্ধে তিনি আলিপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট বুধবার খারিজ করে দিল ‘মহিলার মর্যাদাহানি’ ঘটানোর অভিযোগ। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। ‘মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে খুব বড় জয়’, বলছেন বাবুল ঘনিষ্ঠরা। তবে মহুয়া দেশের বাইরে থাকায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি নিউজ চ্যানেলে আয়োজিত বিতর্কসভা থেকে এই মামলার সূত্রপাত। অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্বে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের উদ্দেশে বাবুল বলেছিলেন, ‘‘মহুয়া আপনি কি মহুয়ায় আছেন?’’ উত্তেজক পানীয় হিসেবে মহুয়া খাওয়ার প্রচলন ভারতের বেশ কিছু অংশে রয়েছে। তাই বাবুলের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের মহিলা সাংসদ। তাঁকে বাবুল ‘মত্ত’ বলতে চেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাবুলের ওই মন্তব্যে এক জন মহিলার মর্যাদাহানি ঘটানোর শামিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আলিপুর থানায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন মহুয়া। তার ভিত্তিতে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বাবুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে। এর পরেই বাবুল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং ‘মহিলার মর্যাদাহানি ঘটানো’র অভিযোগ খারিজ করার আর্জি জানান। হাইকোর্ট তখনই সে আর্জিতে সাড়া দেয়নি। তবে বাবুলের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। বুধবার যে রায় হাইকোর্ট দিল, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, বাবুলের আর্জিই গ্রাহ্য হয়েছে। তিনি এক জন মহিলার মর্যাদাহানি ঘটিয়েছেন বলে যে অভিযোগ নিম্ন আদালতের মান্যতা পেয়ে গিয়েছিল, সেই অভিযোগ হাইকোর্ট এ দিন খারিজ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজ্যকে চিঠি, বাংলায় লোকাল ট্রেন চালাতে রাজি কেন্দ্র
আদালতের রায় ঘোষিত হতেই উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে বিজেপিতে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে বাবুলের টুইটার হ্যান্ডলে তুলে ধরা হয় আদালতের এই রায়। বাবুল নিজেও জানান যে, আদালতের এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘খুব বড় জয়’ হিসেবেই দেখছেন। তবে মহুয়ার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি বিদেশে থাকায় তাঁর সঙ্গে এ দিন যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় তিনি মেনে নেবেন, নাকি বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ‘ব্যস্ত’ অমিত শাহ, শিলিগুড়ি সফর বাতিল, ১৯ তারিখ আসছেন নড্ডা
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy