শুষ্ক মরসুমেও আন্ডারপাসের নীচে জমে থাকা নোংরা জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয় পথচারীদের। বর্ষার সময়ে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়। দমদম আন্ডারপাসের নিকাশি ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা চলছে কয়েক বছর ধরেই। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পথচারীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক পরিদর্শনের পরে সাময়িক কিছু পদক্ষেপ দেখা গেলেও তাতে আখেরে স্থায়ী সমাধান হয় না। তার বদলে শুধুই রেল ও স্থানীয় পুরসভার মধ্যে দায় ঠেলাঠেলির পালা চলে।
এ বার তাই এই সমস্যার সমাধান চেয়ে রেল দফতরের কাছে আবেদন করলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুরজিৎ রায়চৌধুরী। তিনি আবার দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ের প্রতিনিধিস্বরূপ পূর্ব রেলওয়ে বোর্ডের রেল উপভোক্তা পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য। সম্প্রতি পূর্ব রেলওয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকে তিনি দমদম আন্ডারপাসের নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কারের আবেদন করেছেন।
যদিও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বছরভর দমদম আন্ডারপাসের রাস্তায় জল জমে থাকে। বর্ষার সময়ে তা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে ওঠে। কখনও রেল দফতর বা দক্ষিণ দমদম পুরসভার তরফে পরিদর্শনের পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কিছু দিন পরে ফের যে কে সে-ই। তাই স্থায়ী সমাধানের দাবি করছেন স্থানীয়েরা।
শুধু আন্ডারপাস নয়, দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় রেলের অংশেও সমস্যা রয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দমদম ক্যান্টনমেন্টের দু’নম্বর রেল গেটে কোনও আন্ডারপাস নেই। ফলে ট্রেন চলাচলের সময়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে যানবাহন, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও। এ নিয়ে একাধিক বার স্থানীয়েরা সরব হলেও সুরাহা হয়নি। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন সূর্য সেন নগর (জ্যোতিনগর) থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত রেলের জমিতে থাকা রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়।
এই তিন সমস্যার কথা স্বীকার করে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুরজিৎ জানান, রেল দফতরের বৈঠকে এই তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য তিনি প্রস্তাব রেখেছেন। পরিদর্শন করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার চিন্তাভাবনা
করা হবে বলে রেল দফতর সূত্রে তাঁকে জানানো হয়েছে। রেল দফতর সূত্রের খবর, প্রস্তাব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)