ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত। গত ২৬ মার্চ গুলিকাণ্ডে অভিযুক্ত অর্জুন। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক কর্মীকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে। জগদ্দলের ওই ঘটনায় অর্জুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে গিয়েছিল পুলিশ। অর্জুন নিজেই জানিয়েছেন, আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
গত ২৬ মার্চ রাতে অর্জুনের বাড়ির সামনে গুলি-বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। জগদ্দলে মেঘনা মোড়ে মজদুর ভবনের সামনে ওই ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক জন জখম হন। তৃণমূলের দাবি, জখম হওয়া যুবক তাদের দলের কর্মী। অর্জুনই তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন।
ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পরের দিন সকালে অর্জুনকে তলব করে জগদ্দল থানার পুলিশ। যদিও বিজেপি নেতা থানায় হাজিরা দেননি। তৃণমূলের তোলা যাবতীয় অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। ঘটনাক্রমে পুলিশ নোটিস দিয়েছিল অর্জুনকে। মঙ্গলবার তারা বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আর্জি নিয়ে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে যায়। সূত্রের খবর, আদালতও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে।
অর্জুনের নিজের কথায়, ‘‘আমি সকালবেলায় হাই কোর্টে মামলা করেছি। পুলিশ আমার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেছিল। ওই এফআইআর ভুয়ো। তা ছাড়া এই কোর্টের (ব্যারাকপুর নিম্ন আদালত) উপর তো আমার ভরসা ছিল না। তাই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি। আইনি লড়াইয়ের জন্য আমি প্রস্তুত।’’ পাশাপাশি অর্জুনের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে শাসকদল। এই মামলাও তেমনই একটি।
আরও পড়ুন:
জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম পাল্টা কটাক্ষ করেছেন অর্জুনকে। তাঁর অভিযোগ, এমন অনেক অপরাধ করেও কোনও না কোনও ভাবে পার পেয়েছেন অর্জুন। এ বার প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ করছে। সোমনাথ আরও বলেন, ‘‘গুলিবিদ্ধ সাদ্দাম নিজের চোখে দেখেছেন, অর্জুন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন। আমরা সেই কথা পুলিশে জানিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। সিসিটিভি-তে দেখা যাচ্ছে, অর্জুন দৌড়ে যাচ্ছেন। উনি গুলি চালিয়েছেন, সেটা প্রমাণিত। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করছে আদালত।’’