বাড়িতে রয়েছে জলের সংযোগ। সেখানে কখনও কখনও সামান্য জল মেলে। আবার বেশ কয়েক জায়গায় জল মেলে না। অথচ, এই অঞ্চলকে ‘সজল এলাকা’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কাঁকসা পঞ্চায়েতের পানাগড় বাজার সংলগ্ন বেশ কয়েক’টি এলাকায় এখনও মেলে না পাইপলাইনে জল। এলাকাবাসীর দাবি, জলের সংযোগগুলি নষ্ট হতে বসেছে। বিরোধী বিজেপির দাবি, ইতিমধ্যেই বিষয়টি কাঁকসা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আগামী দিনে এই দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। যদিও কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির দাবি, দ্রুত প্রতিটি বাড়িতে জল মিলবে।
কাঁকসা পঞ্চায়েতের পানাগড় বাজারের আশপাশে রয়েছে বেশ কিছু জনপদ। এই সব এলাকায় বহু মানুষের বসবাস। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। সেই সমস্যা দূর করতে ওই সব এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। বেশির ভাগ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কলগুলিতে পানীয় জল দেওয়া শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু, অধিকাংশ জায়গায় জল পৌঁছচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। পানাগড় বাজারের খাটালপাড়া, কমিউনিটি সেন্টার পাড়া, রেলপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় কলের সংযোগ থাকলেও সেগুলোতে জল মেলে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সবিতা দাস জানান, প্রায় ছ’সাত বছর আগে বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, জল মেলেনি। এখন সেই সংযোগও নষ্ট হতে বসেছে। তিনি বলেন, ‘‘বারবার পঞ্চায়েতের কাছে এই বিষয়ে দাবি করেছি। কাজ কিছু হয়নি।’’ আর এক বাসিন্দা হারুনি বাউরি বলেন, ‘‘‘সংযোগ থাকলেও জল আসে না। মাঝেমধ্যে এলেও তা খুবই সামান্য।’’
এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে বিজেপি। বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে কাঁকসা পঞ্চায়েতের সামনে। বিজেপির দাবি, এলাকায় বহু মানুষের বাড়িতে এখনও পানীয় জল পৌঁছয়নি। অথচ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে বলা হচ্ছে, পুরো এলাকায় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপি নেতা রমন শর্মার অভিযোগ, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা চলে আসছে। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানিয়ে লাভ হয়নি। আমরা এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাবেন বাসিন্দারা।’’
কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য জানান, কাঁকসা ব্লক জুড়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে পানীয় জলের কাজ করা হচ্ছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত এলাকাতেও সেই কাজ চলছে। শেষ হয়ে গেলেই সমস্যা মিটে যাবে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)