শহরের বাসিন্দারা তো বটেই রাজ্য এমনকি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় করেন বইপ্রেমীদের পীঠস্থান কলকাতা বইমেলায়। রবিবার শেষ হয়েছে এ বারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। কিন্তু বইমেলায় কত ভিড় হল, কত টাকারই বা বই বিক্রি হল, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল রয়েছে।
বইমেলা শেষ হতেই বইমেলায় ভিড় এবং বই বিক্রির হিসাব দিয়েছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। গত বারের তুলনায় বাড়ল কি কমল, তারও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদীব চট্টোপাধ্যায় জানান, এ বারের বইমেলায় ২৫ লাখ মানুষ এসেছিলেন। গত বার সেই সংখ্যাটা ছিল প্রায় ২৯ লাখ। কেন গত বারের তুলনায় ভিড় কমল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
এ বার বইমেলা শুরু হয়েছিল ২৮ জানুয়ারি। উদ্বোধনের পর থেকেই বইপ্রেমীদের ভিড় উপচে পড়েছিল সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক চত্বরে। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে, কেউ কেউ আবার ভালবাসার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ঢুঁ মেরেছেন বইমেলায়। আবার এমন অনেকেই আছেন একা একাই বইমেলায় গিয়েছেন। এক স্টল থেকে আর এক স্টল চষে বেরিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ত্রিদীব জানিয়েছেন, এ বারে বইমেলায় বই বিক্রি হয়েছে ২৫ কোটি টাকার। গত বারের তুলনায় প্রায় দু’কোটি বেশি। তবে কেন এ বার বইমেলায় ভিড় কমল, তার কারণ হিসাবে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘গত বার ১৪ দিন বইমেলা হয়েছিল। তার মধ্যে আবার দু’দিন জাতীয় ছুটি ছিল। তাই ভিড়ও বেশি ছিল।’’
শেষ দিনে অতিরিক্ত এ ঘণ্টা বেশি খোলা ছিল বইমেলা। অন্যান্য দিন রাত ৮টায় বইমেলার দরজা বন্ধ হলেও রবিবার তা বাড়িয়ে রাত ৯টা করা হয়। গিল্ড সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের তুলনায় বইমেলার শেষ দু’দিন (শনি এবং রবিবার) বেশি ভিড় হয়েছিল। বইপ্রেমীদের কথায়, ‘‘আবার অপেক্ষা এক বছরের’’। পরের বছর কবে বইমেলা হবে? ত্রিদীপ জানান, এখনও তারিখ চূড়ান্ত ঠিক হয়নি। তবে সম্ভবত জানুয়ারি শেষ থেকে ফ্রেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্তই বসবে বইমেলার আসর। খুব শীঘ্রই সেই তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক।