বেসরকারি নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় এক মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থানার দণ্ডিরহাট বাজার এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই মহিলাকে। ঘটনার তদন্তে নেমে ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২৬ বছরের ওই যুবতী একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। তিনি কী ভাবে নার্সিং কোচিং সেন্টারে গেলেন এবং কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে মৃতার স্বামীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তাঁর স্ত্রীর। সেই সূত্রে দণ্ডিরহাট এলাকায় যাতায়াত ছিল দেগঙ্গার বাসিন্দা ব্যাঙ্ককর্মীর।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মাসখানেক আগে নার্সিং কোচিং সেন্টারটি খোলা হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তালাবন্ধ ছিল ওই কেন্দ্র। হঠাৎ করে কেন কোচিং সেন্টারের দরজা বন্ধ, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। খবর যায় পুলিশের কাছে। পরে বসিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ট্রেনিং সেন্টারের মূল দরজা ভাঙার পর সেখানে এক যুবতীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। কিছু ক্ষণ খোঁজখবরের পর মৃতার পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মৃতার বাড়ি দেগঙ্গা থানা এলাকায়। বেড়াচাপায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনিং সেন্টারের দরজা ভেঙে যুবতীকে উদ্ধার করে বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করলে তাঁর স্বামী বলেন, ‘‘সকালে (সোমবার) বাড়ি থেকে বার হয়েছিল ও। বেরোনোর সময় বলে গিয়েছিল, অফিসে কাজ আছে।’’ তার পরেই যুবকের দাবি, ‘‘বসিরহাটের এক যুবকের সঙ্গে আমার স্ত্রীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। সে-ই পরিকল্পনা করে আমার স্ত্রীকে খুন করেছে। ও আত্মহত্যা করতে পারে না।’’ তাঁদের কি দাম্পত্য কলহ চলছিল? স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে মনে করছেন? যুবক ওই সব প্রশ্নের সদুত্তর দেননি। তবে পরে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য দিকে, যে যুবকের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, তিনি জানিয়েছিলেন, সোমবার তাঁর সঙ্গে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা করতে গিয়েছিলেন যুবতী। তিনি ‘বন্ধু’কে বাড়ি পাঠাতে চাইলে, তিনি যেতে চাননি। ওই যুবক বলেন, ‘‘আমি ওকে বাড়ি চলে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু সে কথা না শুনে সেন্টারের দোতলায় উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় ও। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় এক জন কাঠমিস্ত্রিকে ডেকে এনেছিলাম। পরে দরজা ভেঙে ওকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করি আমরা।’’
পুলিশ সূত্রের খবর, মহিলামৃত্যুর ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনও পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি। বসিরহাট সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে দেহর ময়নাতদন্ত শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, মৃতার পরিবারের তরফে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।