কেউ লিখেছে গানের কলি, কেউ প্রেমপত্র, কেউ আবার উত্তরপত্রে গুঁজে দিয়ে এসেছে ১০০ টাকার নোট! উত্তরপ্রদেশের দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে এ রকমই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তেমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা করেছে ‘উত্তরপ্রদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ’ (ইউপিএমএসপি)। পরীক্ষা দিয়েছে ৩০ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া। এপ্রিলে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা। তবে সেই পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়েই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের শামলির আরকে ইন্টার কলেজে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। সেখানে দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের উত্তরপত্র দেখার সময় এক জন পরীক্ষক হতবাক হয়ে যান। বৈজ্ঞানিক ধারণা সম্পর্কিত উত্তরের পরিবর্তে এক পড়ুয়া উত্তরপত্রের প্রতিটি পাতায় বলিউডের গানের কলি লিখেছে।
তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা শুধু শামলির আরকে ইন্টার কলেজের নয়, উত্তরপ্রদেশের অনেক জেলার পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে একই রকম খবর উঠে আসছে। এক পড়ুয়া বিজ্ঞান পরীক্ষার খাতায় পাতার পর পাতা জুড়ে প্রেমপত্র লিখে এসেছে বলেও খবর। কিছু পড়ুয়া আবার খাতায় সরাসরি পরীক্ষকদের কাছে পাশ করিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। কেউ কেউ আবার খাতার মাঝে গুঁজে গিয়ে এসেছে ১০০-২০০ টাকার নোট। সমাজ বিজ্ঞানের উত্তরপত্রে এক জন ছাত্রী লিখে এসেছে, ‘‘স্যর দয়া করে আমাকে পাশ করিয়ে দিন। আপনার পায়ের কাছে দাসী হয়ে থাকব।’’ অন্য এক জন পরীক্ষার্থী আবার বিয়ে আটকে যেতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে পাশ করিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পরীক্ষকের কাছে।
আরও পড়ুন:
সেই সব খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে হইচই পড়েছে। হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যম জুড়েও। অনেকে বিষয়টি নিয়ে মজার মজার মন্তব্য করলেও সে রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।