প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল ৮০ মিনিট পর্যন্ত। আর লেস্টার সিটির মাঠে ১-০ এগিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যেই ২-০ করে ফেলল আর্সেনাল। এবং দু’টি গোলই করলেন মিকেল মেরিনো।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই ম্যাচে গোলশূন্য ফল হলে সবচেয়ে খুশি হত লিভারপুলের সমর্থকেরা। সে ক্ষেত্রে শীর্ষে মহম্মদ সালাহরা এক ম্যাচ হাতে রেখে এগিয়ে থাকত ৬ পয়েন্টে। কিন্তু ম্যাচের ৮১ থেকে ৮৭ মিনিটের মধ্যে বদলে গেল ছবিটা। এই জয়ে লিভারপুলের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটাও চারে নামিয়ে আনল আর্সেনাল।
আপাতত যা পরিস্থিতি তাতে খেতাবের লড়াইটা হবে লিভারপুল ও আর্সেনালই। লেস্টার মাঠে জয়ের পর পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা আর্সেনালের সংগ্রহ ২৫ ম্যাচে ৫৩। এক ম্যাচ কম খেলে লিভারপুলের পয়েন্ট ২৪ ম্যাচে ৫৭। রবিবার লিভারপুলের প্রতিপক্ষ উলভস।
সেই ম্যাচে সালাহরা জিতলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে সাতে। কিন্তু যদি পয়েন্ট হারায় তবে বেশ চাপে পড়বে অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামের ক্লাব। এমনিতে এই ম্যাচে হেরে অবনমন অঞ্চলেই থাকল লেস্টার। ১৮ নম্বরে থাকা দলটির পয়েন্ট ২৫ ম্যাচে ১৭।
লেস্টারের মাঠে শনিবার শুরু থেকে গোলের জন্য মরিয়া চিল আর্সেনাল। কিন্তু বারবার সুযোগ নশ্টের কেলারত দিতে হচ্ছিল তাদের। তার মধ্যে দু’বার বল পোস্টে মেরেছেন এথেন এনওয়ানেরি। তখন মনে হয়েছে, খেলা ড্র-ই হবে। কিন্তু মেরিনো একাই বদলে দিল ছবিটা।
ম্যাচের পরে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, ‘‘সত্যিই মেরিনোই আমাদের তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে আজ। ওর জন্য কোনও প্রশংসা কিন্তু যথেষ্ট নয়।’’ তাঁর আরও কথা, ‘‘আসলে খেলা এতটা কঠিন করে ফেলার জন্য আমরাই দায়ী। এত সুযোগ নষ্ট হলে খুবই হতাশ লাগে। একসময় ভাবছিলাম ড্র করেই লেস্টার ছাড়তে হবে।’’
আর্তেতা কিন্তু এখনই নিজেদের খেতাবের দাবিদার বলতে রাজি নন। তাঁর কথা, ‘‘পয়েন্ট টেবলের দিকে তাকাচ্ছিই না। অন্য কে কী করছে তাও ভাবছি না। ছেলেদের বোঝাচ্ছি, ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখো। তাতে যা হয় হবে।’’
জয়ের নায়ক মেরিনোর কথা, ‘‘খেলাটা এতটা কঠিন হয়ে গেল নিজেদের দোষেই। তবু ভাল, তিন পয়েন্ট এসেছে। আমার আনন্দটা অবশ্যই বেশি। সেটা নিজের জন্য নয়। দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা নিতে পারার কারণে। আশা করব, শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়তে পারব।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)