আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম বার ডার্বি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানকে হারাতে না পারলেও অবশেষে মহমেডান স্পোর্টিংকে হারিয়েছে তারা। ৩-১ গোলে জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। গোল করেছেন মহেশ নাওরেম, সাউল ক্রেসপো ও ডেভিড। সাউল ও ডেভিড রিজ়ার্ভ বেঞ্চে থেকে নেমে গোল করেছেন। এই জয়ের পরেও ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো প্রশংসা করেছেন মহমেডানের ফুটবলারদের।
লিগে মহমেডানের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। ক্লাবের ফুটবলারেরা অভিযোগ করেছেন, বেতন বকেয়া রয়েছে। মাঝপথে ক্লাব ছেড়ে দেশে ফিরে গিয়েছেন কোচ আন্দ্রে চের্নিশভ। এই পরিস্থিতিতেও মহমেডান লড়াই করেছে। জিতলেও ক্লিনশিট রাখতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। গোল করেছেন মহমেডানের ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার কার্লোস ফ্রাঙ্কা। কঠিন পরিস্থিতিতেও মহমেডানের এই লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন লাল-হলুদ কোচ।
খেলা শেষে ব্রুজ়ো বলেন, “মহমেডানের প্রশংসা করতেই হবে। ওরা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও ওরা যথেষ্ট ভাল খেলেছে। লড়াই করে ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করেছে ওরা। আমার তরফ থেকে মহমেডানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রইল।”
দলের রিজ়ার্ভ বেঞ্চই যে দলকে জিতিয়েছেন তা স্বীকার করে নিয়েছেন ব্রুজ়ো। চোটের সমস্যা কিছুটা মেটার কারণেই তাঁর সুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রুজ়ো বলেন, “আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চই ম্যাচের ফয়সালা করে দিয়েছে। সাউল বেঞ্চ থেকে নেমে গোল করল। ডেভিডও তাই। গত কয়েক সপ্তাহে এটাই ছিল না আমাদের। চোট-সমস্যা কমেছে। ফলে আমরা বেঞ্চ থেকে কয়েক জন খেলোয়াড়কে নামাতে পেরেছে। তাতে সুবিধা হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
এই ম্যাচেই প্রথম বার শুরু থেকে খেলেছেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি রাফায়েল মেসি বৌলি। অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি। সুযোগও পেয়েছেন। কিন্তু গোল করতে পারেননি। মেসি বৌলির খেলার প্রশংসা করেছেন ব্রুজ়ো। লাল-হলুদ কোচ বলেন, “৬০ মিনিট ও মাঠে ছিল। প্রতিপক্ষকে ও সমানে চাপে রেখেছিল। মেসির গতি রয়েছে। জোরে শট মারতে পারে। লং বলেও খুব ভাল। বল ধরে রাখতে পারে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ও বেশ কয়েক বার বক্সে ঢুকেছে। ওর জন্য আমরা মহমেডানকে অনেকটা চাপে রাখতে পেরেছি। ওর পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।”
মহমেডানকে হারালেও পয়েন্ট তালিকায় ১১ নম্বরেই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা খুব কম। কিন্তু লড়াই করতে চান ব্রুজ়ো। সমর্থকদের মুখে হাসি ফেরাতে চান তিনি। ব্রুজ়ো বলেন, “আইএসএলে আমরা লড়াই ছেড়ে দিইনি। লড়াই জারি থাকবে। যতটা ভাল ভাবে শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করব। ডার্বি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু দুটো দলের খেলা নয়, ক্লাবের ঐতিহ্য, সমর্থকদের আবেগ, ভালবাসাও এর সঙ্গে মিশে থাকে। তাই ম্যাচের পরে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা গেল, ওরা দলের ছেলেদের পারফরম্যান্সে খুশি। আগামী দিনেও এই খেলাটাই খেলতে চাই।”
ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ২২ ফেব্রুয়ারি। দিল্লির মাঠে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে নামবে তারা। সেই ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট তালিকায় উপরে ওঠার সুযোগ থাকবে লাল-হলুদের। আপাতত সেই লক্ষ্যেই এগোতে চান ব্রুজ়ো।