বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৬ উইকেট জিতলেও ভারতীয় দলে বেশ কিছু ফাঁকফোকর দেখা দিয়েছে। বার বার আলোচনা হচ্ছে রোহিত শর্মাদের ফিল্ডিং নিয়ে। চিন্তা বিরাট কোহলির ফর্ম নিয়েও। এ ছাড়াও আরও কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে ভারতীয় দলের। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে কোন কোন জায়গায় নজর দিতে হবে রোহিতদের?
ফিল্ডিং
ক্যাচ ফেলার শুরুটা করেছিলেন রোহিত। অক্ষর পটেলের বলে তিনি স্লিপে ক্যাচ ফেলেছিলেন। সহজতম ক্যাচ ছিল সেটি। রোহিত নিজেও জানেন সেটা। ম্যাচ শেষে বলেন, “সহজ ক্যাচ ছিল। ধরা উচিত ছিল আমার। তবে আমি এটাও জানি যে ম্যাচের মধ্যে কখনও কখনও এমন হয়ে যায়। আমি নিশ্চয়ই অক্ষরকে খাওয়াতে নিয়ে যাব।” কিন্তু স্লিপে ওই রকম ক্যাচ ফেললে সব ম্যাচ জেতা সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দুই ব্যাটারের ক্যাচ ফেলে ভারত। তোহিদ হৃদয় এবং জাকের আলি মিলে ১৫৪ রানের জুটি গড়ে দিয়েছিলেন ক্যাচ ফেলার সুযোগ নিয়ে। তাতেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি। সব ম্যাচে এমনটা না-ও হতে পারে। হার্দিক পাণ্ড্য ক্যাচ ফেলেছিলেন মিড অফে। সেটিও যথেষ্ট সহজ ক্যাচ ছিল। কিন্তু হার্দিক ধরতে পারেননি। স্টাম্প করার সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছিলেন লোকেশ রাহুল। রান আউট সুযোগ ফস্কেছিলেন শ্রেয়স আয়ার। বাউন্ডারি বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন হর্ষিত রানা। প্রতি ম্যাচে এত ভুল করলে হারতেও হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একটি ম্যাচ হারলেও কঠিন হয়ে যায় ট্রফি জয়।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।
আরও পড়ুন:
বিরাটের ফর্ম
দুবাইয়ে রান তাড়া করতে নেমে রোহিত এবং শুভমন গিল যতটা স্বচ্ছন্দে খেলছিলেন, কোহলিকে সেটা করতে দেখা গেল না। তিনি প্রথম থেকেই দেখে খেলছিলেন। দ্রুত রান তোলার চেষ্টাই করেননি তিনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের শেষ ম্যাচে ৫২ রান করেছিলেন কোহলি। মনে করা হচ্ছিল তিনি হয়তো রানে ফিরেছেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে সেটা দেখা গেল না। ৩৮ বলে ২২ রান করলেন তিনি। একটি মাত্র চার মারেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোহলি রান না পেলে সমস্যা বাড়বে ভারতের।
স্পিনারদের উইকেট না পাওয়া
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের দুই পেসার মিলে আট উইকেট নিয়েছেন। মহম্মদ শামি নিয়েছেন পাঁচটি এবং হর্ষিত রানা তিনটি। কিন্তু দলে থাকা তিন জন স্পিনার সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারলেন না। অক্ষর এক ওভারে দু’টি উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু মিডল ওভারে ভারতীয় স্পিনারেরা কোনও উইকেট তুলতে পারেননি। কুলদীপ যাদব ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। রবীন্দ্র জাডেজা ৯ ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়ে উইকেট পাননি। অক্ষর নিজের প্রথম ওভারে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। পরের আটটি ওভারে আর উইকেট নিতে পারেননি। তিনি ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশের জাকের এবং তোহিদের উইকেট তাঁরা নিতে পারেননি। শামি এবং হর্ষিতই আউট করেছিলেন তাঁদের। মিডল ওভারে বিপক্ষের উইকেট ফেলতে না পারলে সমস্যায় পড়বে ভারত। অনেক দলের মিডল অর্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী। ভারত পাঁচ জন স্পিনার নিয়ে দুবাইয়ে গিয়েছে। সেই স্পিনারেরাই যদি উইকেট নিতে না পারেন, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যায় পড়বেন রোহিতেরা।