নায়াগ্রা থেকে সেভেন সিস্টার্স। পৃথিবী জুড়ে আশ্চর্য সুন্দর সব জলপ্রপাত। জনপ্রিয়তার তালিকায় কত শত নাম। কিন্তু কখনও কি জলের তলার জলপ্রপাতের নাম শুনেছেন? ব্যক্তিগত ভ্রমণতালিকায় তবে যোগ করে নিন এই জায়গাটিও। এই দৃশ্য দেখা যাবে মরিশাসে। জলের তলায় আরও এক প্রবাহ। স্ফটিকের মতো ধারার নীচে ঝরঝরিয়ে গড়িয়ে চলেছে জল। যেন কোনও কাল্পনিক স্থান। প্রকৃতি যে রহস্যে মোড়া, তার এমন নিদর্শন রয়েছে মরিশাসের উপকূলে।
এই প্রপাতের কথা খুব কম পর্যটকই জানেন। উপরন্তু এই মায়াবী দৃশ্য দর্শন করতে হলে খরচ হবে প্রবল। তাই মানুষের ভিড় নেই বললেই চলে। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ‘লে মর্ন ব্রাবান্ট’ (যা ভারত মহাসাগরের মরিশাস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ)-এর পাশে জলের এই প্রবাহ দেখতে হলে হয় সমুদ্র বিমান, নয়তো বা হেলিকপ্টারে চাপতে হবে। আর নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে এই জলপ্রপাত নাকি অকল্পনীয় সুন্দর। রং একটিই, নীল। কিন্তু তার যে কত রকমফের হতে পারে, তা ওই জায়গায় গিয়ে বোঝা যায়।

এই মায়াবী দৃশ্যের এক ঝলক দেখতে পাবেন লে মর্ন ব্রাবান্টের চূড়ায় হাইকিং করে। ছবি: সংগৃহীত।
এ কি বাস্তব না কি দৃষ্টিভ্রম?
জলের নীচে এই জলের ধারা আদপে বাস্তব নয়। এটি আসলেই দৃষ্টিভ্রম, যা কেবল নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে দেখলেই চোখে আসে। বিভিন্ন রঙের বালি, আলোর প্রতিফলন এবং সমুদ্রের স্রোতের টানের ফলেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যেখানে মনে হয়, জলের নীচে জলপ্রপাত রয়েছে। আর এই কারণেই পৃথিবীর সুন্দরতম জলপ্রপাতের তালিকায় এটির নাম নেই। কারণ এটি আদপে জলপ্রপাতই নয়।
কী ভাবে দেখতে যাবেন?
সেই দেশের নিজস্ব বিমান সংস্থা সাইটসিয়িংয়ের জন্য বুকিং নেয়। আকাশ থেকে এই দৃশ্য দেখা যায়। তবে তার খরচ অনেক। যদি টাকা বাঁচানোর লক্ষ্য থাকে, তা হলে আর একটি উপায় রয়েছে। এই মায়াবী দৃশ্যের এক ঝলক দেখতে পাবেন লে মর্ন ব্রাবান্টের চূড়ায় হাইকিং করে। ৫০০ মিটার উঁচু এই চূড়ায় পৌঁছোনোর পর রঙিন প্রবালের প্রাচীর দেখা যাবে। সেখান থেকে এই নকল জলপ্রপাত দেখতে পাবেন। তবে সবচেয়ে ভাল ভাবে দেখা যায় সমুদ্র বিমান বা হেলিকপ্টার থেকেই।