ভারতে বহু গৃহস্থবাড়িতে রাতে রুটি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই আবার রুটিতে অরুচি। এই সমস্ত ক্ষেত্রেই শুরু হয়ে যায় ভাত ও রুটির দ্বন্দ্ব। স্বাদ ও নমনীয়তার সঙ্গে তুলনা টেনে প্রায়শই রুটিকে হারিয়ে দেন ভাত-প্রেমী বাঙালিরা।
রোজের এই প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন নরম তুলতুলে রুটি বানানোর নিয়ম। তবে অনেকেই নরম রুটি বানাতে সক্ষম, কিন্তু সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম জানেন না বলে সবই বৃথা হয়ে যায়। বেশি ক্ষণ পড়ে থাকলে রুটিও রং বদলে নেয়। তাই নরম রুটি বানানো এবং সংরক্ষণ করার টোটকা জেনে নিন।

জল-আটার অনুপাতের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। শক্ত রুটির জন্য প্রাথমিক ভাবে দায়ী এই পর্যায়টিই। ছবি: সংগৃহীত।
১. প্রথমেই জল-আটার অনুপাতের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। শক্ত রুটির জন্য প্রাথমিক ভাবে দায়ী এই পর্যায়টিই। খুব কম জলের ফলে আটা শুকিয়ে যেতে পারে। অন্য দিকে, খুব বেশি জল দিলে আটা আঠালো হয়ে যায়। ময়দা দিয়ে রুটি বানালেও একই সূত্র প্রযোজ্য। এক কাপ আটা বা ময়দার জন্য প্রায় অর্ধেক কাপ জল নিতে হবে। তত ক্ষণ ধরে মাখতে হবে, যত ক্ষণ না নরম হচ্ছে। মাখার সময় জলের বদলে গরম দুধও ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে আটা বা ময়দায় এক চিমটে নুন ছড়িয়ে দিন। তার পর ধীরে ধীরে গরম দুধ ঢালতে পারেন।
২. অনেকেই মাখার পর অনেক ক্ষণ রেখে দেন, কেউ আবার কোনও সময়েই দেন না। দু’টিই ভুল। এর কারণেও রুটি শক্ত হয়ে যায়। তাওয়ায় দেওয়ার আগে ২০-৩০ মিনিটের জন্য রেখে দেওয়া উচিত। ভেজা কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখলে আরও ভাল। এতে কেবল রুটি নরমই হয় না, সুস্বাদুও হয়।

রুটি তৈরির পর সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করলে সব চেষ্টাই বৃথা। ছবি: সংগৃহীত।
৩. রুটি দেওয়ার সময়ে তাওয়া যদি খুব গরম হয়ে যায়, তা হলে বাইরেটি খুব দ্রুত সেঁকে যায়। কিন্তু কাঁচা থেকে যায় ভিতর থেকে। ফলে শক্ত হয় রুটি। আবার যদি যথেষ্ট গরম না হয়, তা হলে অনেক ক্ষণ ধরে সেঁকতে হয়। এর ফলেও শুষ্ক এবং শক্ত হয়ে যেতে পারে। নরম রুটি বানাতে হলে তাওয়ার তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিলে সবচেয়ে ভাল। তার দু’টি পদ্ধতি আছে। তাওয়ার উপর কয়েক ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিন। যদি জল দ্রুত ফুটে বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তার মানে তাওয়া প্রস্তুত। নয়তো, তাওয়ার উপর একটি ছোট ময়দা বা আটার লেছি রাখুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামান্য ফুলে উঠে বাদামি হয়ে গেলে বুঝবেন,তাওয়ায় এ বার রুটি দিতে পারেন। মাথায় রাখতে হবে, রুটি উল্টানোর আগে প্রতিটি পাশ প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে সেঁকতে হবে।
৪. তাওয়ায় দেওয়ার সময় ঘি বা তেল দিলে রুটি নরম হয়। অথবা আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য সেঁকে নেওয়ার পর মুহূর্তেই রুটিগুলিতে ঘি বা মাখনও মাখিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া আটা-ময়দা মাখার সময়েও ঘি দিতে পারেন। এতে তৈলাক্ত থাকে লেছিগুলি।
৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রুটি তৈরির পর সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করলে সব চেষ্টাই বৃথা। রুটি বানানোর পর হালকা গরম পাত্রে রাখুন অথবা একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে গরম রাখুন।যাতে শুকিয়ে না যায়। একটার উপর একটা রুটি রাখতে থাকলে বাষ্পের কারণে নীচেরগুলি ভিজে যেতে পারে। প্রতিটি রুটির মাঝে একটি করে নরম কাপড় রাখুন।
নরম এবং সুস্বাদু রুটি তৈরি করা খুব সহজ নয়। প্রয়োজন, অনুশীলন এবং কৌশল। প্রত্যেকটি ধাপ মন দিয়ে সঠিক ভাবে পার করতে পারলে, রুটি পরিবেশনের সময়ে বা খাওয়ার সময়ে রসনায় খামতি পড়বে না। তৃপ্তি করে রুটি খাওয়াতে এবং খেতে হলে নিজের হেঁসেলে এই টোটকাগুলি প্রয়োগ করে দেখুন।