শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে ওবিসিটি বা স্থূলত্বের প্রবণতা, মাত্রাতিরিক্ত ওজন এখন বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, মতে, বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ২৫-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন বলে চিহ্নিত করা হয়, আর ৩০-এর বেশি হলেই তা স্থূলতার অবস্থা বলে ভাবা হয়। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে ১৯৭৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে স্থূলতা বেড়েছে আট গুণ। ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে’-র সমীক্ষা বলছে, এ দেশে ২০০৩-২০২৩ সালের মধ্যে শৈশবকালীন স্থূলত্বের হার বেড়েছে ৮.৪-১২.৪ শতাংশ। যার অন্যতম প্রধান কারণ হল সুষম খাবার না খাওয়ার অভ্যাস।
সন্তান ছোট থেকেই স্থূলত্বের শিকার হলে, পরবর্তী কালে নানা রোগ দেখা দেবে এতে কোনও সন্দেহই নেই। বিশেষ করে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’-এর শিকার হবে শিশু, যা থেকে ডায়াবিটিস, থাইরয়েডের মতো অসুখ মাথাচাড়া দিতে থাকবে। তাই ওজন যদি কমাতেই হয়, তা হলে নিয়মিত শরীরচর্চা যেমন জরুরি, তেমনই রোজের খাবারে প্রোটিনও মেপে দিতে হবে অভিভাবকদের। প্রোটিন মানেই যে কেবল গাদাখানেক মাছ-মাংস খাবে তা নয়। প্রোটিন শেকও খেতে হবে, যা পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি শরীরকে ‘ডিটক্স’ করবে। তবে দোকান থেকে কেনা প্রোটিন শেক নয়, বাড়িতে বানিয়ে দিলে উপকার বেশি হবে।
কী ভাবে বানাবেন প্রোটিন শেক?
গ্রিন ডিটক্স প্রোটিন শেক
১ চা-চামচ প্রোটিন পাউডার, ১ কাপ পালং শাক কুচোনো, অর্ধেকটা সবুজ আপেল, ১ চা-চামচ চিয়া বীজ ও ১ কাপ ডাবের জল নিতে হবে।

গ্রিন ডিটক্স প্রোটিন শেক। ছবি: ফ্রিপিক।
সমস্ত উপকরণ মিক্সারে ভাল করে পিষে নিয়ে মিহি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এর পর তা গ্লাসে ঢেলে উপরে ড্রাই ফ্রুট্স ছড়িয়ে সন্তানকে দিতে পারেন। সকালের জলখাবারের সঙ্গে বা বিকেলে খেলাধূলার পরে এই প্রোটিন শেক খেলে শরীরে শক্তি হবে এবং বাড়তি ক্যালোরিও কমে যাবে।
চকোলেট আমন্ড বাটার শেক

চকোলেট আমন্ড বাটার শেক। ছবি: ফ্রিপিক।
শিশু যদি চকোলেট পছন্দ করে, তা হলে চকোলেটের স্বাদের প্রোটিন পাউডার কিনতে পারেন। এর সঙ্গে মেশাতে হবে ১ কাপ কাঠবাদামের দুধ, ১ কাপ আমন্ড বাটার, অর্ধেকটা কলা ও আধ চা-চামচ দারচিনির গুঁড়ো। সমস্ত উপকরণ ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে প্রোটিন শেক। ফাইবারে ভরপুর এই প্রোটিন শেক নিয়মিত খেলে ওজন কমবে, রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সন্তান যদি প্রি-ডায়াবেটিক হয়, তা হলেও এই প্রোটিন শেক খাওয়াতে পারেন।
পিনাট বাটার বানানা শেক

পিনাট বাটার বানানা শেক। ছবি: ফ্রিপিক।
১ কাপ ভ্যানিলা প্রোটিন পাউডার, অর্ধেকটা কলা, ১ চা চামচ পিনাট বাটারের সঙ্গে ১ কাপ জল মিশিয়ে নিন। মিক্সারে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে লো-ক্যালোরি প্রোটিন শেক। লিভারের সমস্যা থাকলে এই প্রোটিন শেক খাওয়াতে পারেন সন্তানকে। এতে ওজন কমবে, শরীরে পুষ্টির ঘাটতিও মিটবে।