বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় রেল। —ফাইল চিত্র।
দু’সপ্তাহ আগের একটি ঘটনার জেরে এ রাজ্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় রেল। গত ১৫ অক্টোবর হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস হাওড়া ফেরার সময়ে ঘটনাটি ঘটে। সে-দিন উত্তরবঙ্গে রাঙাপানি এবং নিজবাড়ি স্টেশনের মাঝে হঠাৎ চাকা-বিভ্রাটে ট্রেনটি থমকে যায়।
হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সি-১৪ কোচের একেবারে সামনের দিকের দু’টি চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেখা যায়। ওই বিপত্তির পরে প্রায় দু’ঘন্টার চেষ্টায় সাময়িক মেরামতি করে ট্রেনটি ফের চালানো হয়। অর্ধেকের কম গতিতে সফর শেষ করে ট্রেনটি সে-দিন কোনওমতে বেশি রাতে হাওড়া এসে পৌঁছয়। সে-দিনের ওই বিপত্তির পিছনে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন রেল কর্তাদের একাংশ। যে ভাবে ট্রেনের চাকায় বুলেটের ক্ষতের মতো ফুটো হয়েছিল তাতে সেই আশঙ্কাই জোরালো হয়েছে। ওই বিপত্তির পরে পরিস্থিতি সামলাতে ট্রেনটি পরপর দু’দিন চালানো যায়নি। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটির মেরামতির জন্য করমণ্ডল এক্সপ্রেসের লাগেজ ভ্যানে করে চেন্নাইয়ের আই সি এফ কারখানা থেকে আলাদা করে চাকা নিয়ে আসা হয়। সে-দিনের ঘটনার পরে রেলের আধিকারিকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন , ‘‘বাইরের কোনও কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে চাকার ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।’’
পরে ওই চাকা পরীক্ষা করার পরে রেলের আধিকারিকদের একাংশের ধারণা, ট্রেনটির লাইনে ইস্পাতের বোল্ট জাতীয় কিছু রাখা হয়ে থাকতে পারে। ওই বোল্টের সঙ্গে ধাক্কা লেগেই সম্ভবত চাকায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আসার আগে কেউ ওই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। সে দিক থেকে বিষয়টিকে নাশকতার অপচেষ্টার সমান বলেই মনে করছেন রেল কর্তাদের একাংশ। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ফোর্জড হুইল বা পেটা লোহার চাকা ব্যবহার করা হয়। মালগাড়ি-সহ বেশির ভাগ ট্রেনে সাধারণত ঢালাই লোহার চাকা ব্যবহার করা হয়। একমাত্র রেলের ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভে পেটা লোহার চাকা ব্যবহার করা হয়। পেটা লোহার চাকা সাধারণ ভাবে অনেক বেশি মজবুত। সেই চাকাও যে-ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে বিষয়টি উদ্বেগের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।
যে-ভাবে ওই ঘটনা ঘটেছে তাতে ট্রেনের কোনও যন্ত্রাংশ লাইনে খুলে পড়ে চাকায় ধাক্কা খেয়ে এমন বিপত্তির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন রেল কর্তাদের একাংশ। পরে ট্রেন পরীক্ষা করেও কোনও কিছু খুলে পড়ার মতো অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি বলেই জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। অতএব এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ট্রেনটির যাত্রাপথে লাইনের সুরক্ষা কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা খতিয়ে দেখছে রেল। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলার সময়ে এ রাজ্যে আগে পাথর ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। তাতে ট্রেনটির কাচের জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy