স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে হাঁটা শুরু করেছিল কিশোরী। কিন্তু ক্লাস আর করা হল না তার। হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে পৌঁছোলেও গেটের সামনেই হার্ট অ্যাটাক হয় তার। অচৈতন্য হয়ে লুটিয়ে পড়ে সে। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষী এই দৃশ্য দেখে ছুটে যান। শিক্ষকদের ডাকেন। তড়িঘড়ি ওই ছাত্রীকে কাছেরই একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিপিআর (কার্ডিয়ো পালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়া হয়। কিন্তু জ্ঞান না ফেরায় অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে ছাত্রীকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায়। মৃত ওই ছাত্রীর নাম শ্রী নিধি (১৬)। সিঙ্গারায়পল্লি গ্রামের বাসিন্দা। দশম শ্রেণিতে পড়ত সে। আচমকা তার মৃত্যুতে সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক এবং এলাকাবাসীরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। নিধির পরিবার জানিয়েছে, প্রতি দিনের মতোই হেঁটে স্কুলে গিয়েছিল সে। কোনও রকম অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। শরীর খারাপও ছিল না। কন্যার মৃত্যুতে দিশাহারা গোটা পরিবার।
নিধির এক সহপাঠী জানিয়েছে, খুব মিশুকে ছিল সে। ক্লাসে কারও সঙ্গে কোনও দিন ঝগড়া, ঝামেলা হয়নি তার। পড়াশোনাতেও ভাল ছিল। স্কুলে নিয়মিত আসত। তার কথায়, ‘‘আমরা এক প্রিয় বান্ধবীকে হারালাম।’’ স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, গেটের সামনে এসে আচমকাই পড়ে যায় নিধি। তাকে পড়ে যেতে দেখে ছুটে এসে চোখেমুখে জল দেন তিনি। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শিক্ষকদের খবর দেন। তার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।
শুধু নিধিই নয়, মাস কয়েক আগেই উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুশালনের সময় মাঠে হার্ট অ্যাটাক হয় তার। গত কয়েক মাসে পর পর স্কুলপড়ুয়াদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কারও বয়স ছয় তো কারও বয়স ১০। সেই তালিকায় তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার ছিল।