মাতোশ্রীর সামনে শিবসৈনিকদের সামনে বক্তৃতা করছেন উদ্ধব। ছবি— পিটিআই।
শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বালাসাহেব পুত্র উদ্ধব ঠাকরে। মাতোশ্রীর সামনে এক বিরাট জনসভায় উদ্ধবের ঘোষণা, ‘‘যুদ্ধ এ বার শুরু হল।’’
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রতীকচিহ্ন তির, ধনুক এবং শিবসেনা নাম ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী। ঘটিহারা অবস্থা উদ্ধব শিবিরের। সেই প্রেক্ষিতে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বালাসাহেবের পুত্র। শিন্ডে শিবিরকে আগাগোড়া ‘চোর’ সম্বোধন করে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন উদ্ধব। তাঁর আক্রমণের রোষ থেকে বাদ গেলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘মহারাষ্ট্রে ঢুকতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর বালাসাহেব ঠাকরের মুখোশের প্রয়োজন পড়বে।’’
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চোরেদের পবিত্র তির, ধনুক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে মশালও ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। আমি ওদের চ্যালেঞ্জ করছি, যদি মানুষ হয়ে থাকো তা হলে চুরি করা তির, ধনুক নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াও। আমাদের হাতে থাকবে মশাল। লড়াই হবে। এটাই আমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। যুদ্ধ এ বার শুরু হল।’’ বালাসাহেবের ছেলে বলে চলেন, ‘‘এই চোরেরা বালাসাহেবের পার্টির নাম এবং প্রতীকচিহ্ন চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। আজ মহা শিবরাত্রি এবং আগামী কাল শিবাজী জয়ন্তীর আগের সন্ধ্যায় করা হয়েছে। কিন্তু আমার ‘সৈনিক’রা আমাকে ছেড়ে যাননি। যত ক্ষণ না আমরা এই চোরেদের মোক্ষম জবাব দিয়ে খতম করে দিতে পারব, তত দিন আমরা কেউ নিশ্চিন্তে বসব না।’’ উদ্ধবের কথা শুনে হাততালিতে ফেটে পড়ে এলাকা।
শুক্রবারই কমিশনের রায় গিয়েছে উদ্ধব শিবিরের বিপক্ষে। তার পর থেকেই লাগাতার আক্রমণ আসছে মাতোশ্রী থেকে। নির্বাচন কমিশনকে ‘মোদীর গোলাম’ বলেও আক্রমণ করেছেন উদ্ধব। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধবপুত্র আদিত্যও কড়া আক্রমণ করেন দেশের নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর টুইটে লেখা হয়, ‘‘চুরিকে মান্যতা দিতে প্রকাশ্য দিবালোকে গণতন্ত্রকে খুন করা হচ্ছে।’’
যদিও প্রতীক চিহ্ন এবং দলের নাম হারানোকে কোনও বিষয় বলেই মনে করছেন না মহাবিকাশ আঘাডীর অন্যতম স্তম্ভ তথা মহারাষ্ট্রেরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শরদ পওয়ার। তিনি বলছেন, ‘‘এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। একবার রায়দান হয়ে গেলে আলোচনার পরিসর থাকে না। এটাকেই মেনে নিন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যান। এর বড় কোনও প্রভাব পড়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। আগামী ১৫-৩০ দিন এটা নিয়ে আলোচনা হবে, তার পর মানুষ ভুলে যাবেন।’’ এই প্রসঙ্গে পওয়ার মনে করিয়ে দেন ইন্দিরা গান্ধীর কথাও। যখন কংগ্রেসের জোড়া বলদ চিহ্ন কেড়ে নেওয়া হয়। ইন্দিরা হাত প্রতীক বেছে নেন। মানুষ দ্রুত সেই প্রতীকে অভ্যস্ত হয়ে যান বলেও দাবি করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy