এখন দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে ‘আরএসএসের বাছাই করা ব্যক্তিদের’ বসানো হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য পদেও আরএসএসের বাছাই করা ব্যক্তিদের দেখা যাবে বলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুললেন।
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত বেঁধেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ইউজিসি-র খসড়া নিয়মে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্যের থেকে নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। আজ দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের ছাত্র সংগগঠনগুলির সংসদ অভিযানে যন্তর মন্তরের জনসভায় রাহুল বলেন, ‘‘আরএসএস ভারতের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করতে চাইছে। শিক্ষা ব্যবস্থা আরএসএসের হাতে চলে গেলে কেউ চাকরি পাবে না, দেশটা উচ্ছন্নে যাবে। উপাচার্য পদে আরএসএসের লোক বসানো দেশের জন্য বিপজ্জনক। তা আটকাতে হবে।’’
রবিবারই বেঙ্গালুরুতে আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার বৈঠক শেষ হয়েছে। সেখানে আরএসএস দেশের আইআইটি, আইআইএমের মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থায় শিকড় ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের ছাত্র সংগঠনগুলি মোদী সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতি, ইউজিসি-র খসড়া নিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শিক্ষার গৈরিকীকরণের বিরুদ্ধে সংসদ অভিযান করে বিজেপি-আরএসএসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে করায়ত্ত করার প্রচেষ্টারই বিরোধিতা করেছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, লোকসভা নির্বাচনের এক বছর পরে যখন ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সে সময় ছাত্র সংগঠনগুলি ওই মঞ্চের নামেই সংসদ অভিযান করেছে। সেখানে অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল হাজির হয়ে বলেন, ‘‘আপনারা ইন্ডিয়া জোটের ছাত্র সংগঠন। আমাদের মধ্যে কিছু মতাদর্শগত, অথবা নীতিগত মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কেউ আপস করি না।’’ রাহুল বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কুম্ভমেলা নিয়ে বক্তৃতা করেছেন। আমি ওখানে বলতে চেয়েছিলাম, কুম্ভমেলা নিয়ে কথা বলা খুব ভাল। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলতে হবে। নরেন্দ্র মোদী কখনও বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে একটি শব্দও বলেন না। বিজেপির মডেল হল, আদানির হাতে দেশের সম্পদ ও আরএসএসের হাতে দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান তুলে দেওয়া। আমরা এর বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ব।’’
‘ইন্ডিয়া’র ছাত্র সংগঠনগুলির সংসদ অভিযানে অবশ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ছিল না। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস বলেন, ‘‘পাঠ্যক্রমে আরএসএসের অনুপ্রবেশ বাড়ছে। যাদবপুর থেকে জামিয়া, হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেএনইউ, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের অভাব দেখা যাচ্ছে।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)