সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে। কিন্তু সেই হত্যাকাণ্ডে যে নীল ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তার জেরেই এখন ড্রামের ব্যবসা ‘লাটে’ উঠতে চলেছে উত্তরপ্রদেশের মেরঠে। সৌরভকে হত্যার পর তাঁর দেহ লোপাট করতে মেরঠের যে এলাকা থেকে নীলরঙা ড্রাম কিনেছিলেন অভিযুক্ত মুস্কান এবং সাহিল, বিশেষ করে সেই এলাকায় ড্রামের ব্যবসা মার খাচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মেরঠের ঘণ্টাঘর এলাকায় বড় বড় ড্রামের অনেক দোকান রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সৌরভ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নীল ড্রামটি কেনা হয়েছিল জলি কোঠী এলাকা থেকে। ঘণ্টাঘর এবং জলি কোঠী এলাকায় প্রচুর দোকান রয়েছে ড্রামের। কিন্তু সৌরভ হত্যার পর থেকে তাঁদের দোকানে খদ্দেরের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নীল ড্রাম কিনতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি দোকানদারদের।
ওই এলাকার ড্রাম ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গ্রাহকদের কাছে বার বার আর্জিও জানানো হচ্ছে যে, সৌরভ-হত্যার সঙ্গে নীল ড্রামের কোনও যোগ নেই। আর যাঁরা এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত, তাঁরা বর্তমানে জেলে। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, ‘‘আমরা কী অপরাধ করলাম? এই ঘটনায় নীলরঙা ড্রাম ব্যবহারের জেরে ব্যবসা মার খাচ্ছে। গ্রাহকদের বার বার বলা সত্ত্বেও ড্রাম কিনতে রাজি হচ্ছেন না।’’
এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, লোকজনকে রীতিমতো বোঝাতে হচ্ছে যে, এই ড্রাম জল, সব্জি এবং ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী। যদিও সকলে এর প্রয়োজনীয়তা জানেন। কিন্তু সৌরভ হত্যার পর থেকেই এই ড্রাম কেনা এড়িয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকেরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, এক হত্যাকাণ্ডই তাঁদের রুটিরুজি বন্ধ করে দিতে চলেছে। তাই এ বার থেকে ড্রাম বিক্রি করার জন্য তাঁরাও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে চলেছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, ড্রাম বিক্রি করার আগে গ্রাহকদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া ড্রাম বিক্রি করা হবে না।
সৌরভ হত্যার পরে নীল ড্রাম নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা মিমও ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘরে নীলরঙা ড্রাম থাকলেই সেগুলি ফেলে দিয়ে আসছেন, এমন মিম ঘুরছে। এ বার বাস্তবেই ড্রামের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে মেরঠে। প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ সৌরভকে খুন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী মুস্কান এবং স্ত্রীর প্রেমিক সাহিলের বিরুদ্ধে। তার পর তাঁদের দেহ ১৫ টুকরো করে ৫৫০ লিটারের নীলরঙা ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢেলে মুখ আটকে দেওয়া হয়। তার পর থেকেই নীল ড্রামের প্রতি একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মেরঠের জনমানসে। এমনটাই দাবি করছেন ড্রাম ব্যবসায়ীরা।