তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর বোনের মতো। বার বার কাকুতিমিনতি করার পরেও রেহাই পাননি। ধর্ষণে বাধা পেতেই চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরের স্টেশনে পৌঁছনোর মাঝের সময়ে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন তামিলনাড়ুর নির্যাতিতা।
তিরুপতি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের মহিলা কামরায় তিরুপুর স্টেশন থেকে উঠেছিলেন মহিলা। যাচ্ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুরে। একাই সফর করছিলেন তিনি। মহিলা কামরায় তিনি ছাড়াও আরও সাত জন যাত্রী ছিলেন। কিন্তু সকলেই জোলারপেট স্টেশনে নেমে যান। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে বেরোনোর মুহূর্তে এক যুবক মহিলা কামরায় উঠে পড়েন। নির্যাতিতা বলেন, ‘‘যুবককে উঠতে দেখেই তাঁকে বলি এটা মহিলা কামরা। আপনি নেমে যান। তখন তিনি আমাকে জানান, ভুল করে উঠে পড়েছেন। পরের স্টেশনেই নেমে পড়বেন।’’
নির্যাতিতার দাবি, যুবক একটি আসনে গিয়ে বসেন। আধঘণ্টা চুপ করে বসে ছিলেন তিনি। তার পর শৌচাগারে যান। কিছু ক্ষণ পরে বেরিয়ে আসেন। নির্যাতিতার কথায়, ‘‘শৌচাগার থেকে নগ্ন অবস্থায় বেরিয়ে আসতে দেখে ভয়ে শিউরে উঠি। তার পরই আমার উপর চড়াও হয়। পোশাক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। বার বার বলতে থাকি, আমি অন্তঃসত্ত্বা। আপনার বোনের মতো। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’’
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, বাধা পেয়ে আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন যুবক। চেন টেনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। কিন্তু তাঁকে ট্রেনের মেঝেতে ঠেলে ফেলা হয়। তাঁর কথায়, ‘‘শৌচাগারের দিকে এগিয়ে যাই। ভিতরে ঢুকে দরজা আটকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমাকে টানতে টানতে বার করেন। কামরার দরজার কাছে নিয়ে গিয়ে হাত ভেঙে দেন। তার পর ঠেলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক হাত দিয়ে কোনও রকমে ট্রেনের সিঁড়ি ধরে ফেলি। চলন্ত ট্রেনে ঝুলছিলাম। তার পর একটা সজোরে লাথি মারলেন যুবক। ট্রেন থেকে ছিটকে পড়লাম। তার পর আর কিছু মনে নেই আমার।’’
পুলিশ জানিয়েছে, কোয়েম্বত্তূর থেকে কিছুটা দূরে রেললাইনের ধারে এক মহিলাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। তাঁরাই পুলিশের খবর দেন। পুলিশ এসে গুরুতর জখম অবস্থায় মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তাঁর হাত, পা এবং মাথায় চোট রয়েছে। ভেলোরের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে অন্তঃসত্ত্বার।