আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই ছিল আনন্দ করের জীবনের লক্ষ্য। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘হেমলক সোসাইটি’ ছবির সেই চরিত্র আজও চর্চিত। তবে সিকুয়েল ‘কিলবিল সোসাইটি’-তে সেই চরিত্রের নাম বদলে গিয়ে হয়েছে মৃত্যুঞ্জয় কর। মৃত্যুঞ্জয় কর আত্মহত্যাপ্রবণদের বাঁচায় না। বরং তার গুলিতে মৃত্যু হয় মানুষের। ছবির ঝলক তেমনই ইঙ্গিত দেয়। তবে ছবির এই বিষয়বস্তু পরিচালক খুঁজে পেয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবন থেকে। নিজেই জানিয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
অ্যাঞ্জেলিনার বয়স তখন ২২, আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু চেয়েছিলেন, মৃত্যু দেখে মানুষের মনে হোক তিনি খুন হয়েছেন। বিশেষ করে আত্মহত্যার কথা জানতে পারলে মা ভেঙে পড়বেন। কিন্তু গুলিতে মৃত্যু হলে সকলে সাধারণ মৃত্যুই মনে করবেন। পরিবারেরও কোনও অনুতাপ থাকবে না। তাই এক বন্দুকবাজকে ভাড়া করেছিলেন তাঁকে গুলি করার জন্য। ২০০৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা নিজেই জানিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা।
আরও পড়ুন:
বন্দুকবাজকে পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতেও শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন সেই বন্দুকবাজ। তিনি নিজেই সেই সময়ে অ্যাঞ্জেলিনাকে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে বলেছিলেন। অভিনেত্রী সেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “সেই ব্যক্তি বেশ ভদ্র ছিলেন। আমাকে আরও এক বার ভেবে দেখে দু’মাস পরে ফোন করতে বলেছিলেন।” সেই বন্দুকবাজের কথামতোই ফের সব ভেবে দেখেন অ্যাঞ্জেলিনা। অবশেষে মৃত্যুর চিন্তা থেকে মুক্ত হন তিনি।
আগামী ১১ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলেছে সৃজিতের ‘কিলবিল সোসাইটি’। মৃত্যুঞ্জয় করের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। আত্মহত্যাপ্রবণ মহিলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন সন্দীপ্তা সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসুও।