দেশে বিলাসবহুল রিয়্যাল এস্টেটের বাড়ছে চাহিদা। গত তিন বছরে ১০০ কোটি বা তার বেশি মূল্যের বিক্রি হওয়া বাড়ির সংখ্যা ৪৯। রিয়্যাল এস্টেট সংস্থা জেএলএলের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে তেমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে এই সময়সীমায় বিলাসবহুল বাড়ি কিনতে ৭,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকেরা।
সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে বহুমূল্যের বাড়ি বলতে শুধুমাত্র বাংলোকে বোঝাত। কিন্তু বর্তমানে রিয়্যাল এস্টেটের বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গত তিন বছরে প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি বাংলোকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্রেতাদের বাড়ি পছন্দের ক্ষেত্রে এই বদলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সমীক্ষকদের দাবি, চলতি বছরে এই ধারা অব্যাহত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম দু’মাসে ৮৫০ কোটি টাকার চারটি সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে। জেএলএলের মুখ্য অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক দলের প্রধান সামন্তক দাস বলেছেন, ‘‘গত তিন বছরে ১০০ কোটি বা তার বেশি মূল্যের বিক্রি হওয়া বাড়িগুলির মধ্যে ৬৫ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট। বাকি ৩৫ শতাংশ বাংলো বাড়ি।’’
জেএলএলের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০ কোটি বা ৫০০ কোটি মূল্যের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, বাংলো এবং ভিলাও বিক্রি হয়েছে। উচ্চ মূল্যের বাড়ি বেশি বিক্রি হয়েছে মুম্বই এবং দিল্লি এনসিআরে। বিলাসবহুল বাড়ির ক্রেতার তালিকায় মূলত রয়েছেন শিল্প সংস্থার শীর্ষ আধিকারিক, চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রী বা পরিচালক এবং স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতারা।
গত তিন বছরে অতি বিলাসবহুল বাড়ি সর্বাধিক বিক্রি হয়েছে মুম্বইয়ে। বাণিজ্যনগরীর মালাবার হিল্স এবং ওরলিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট বা বাংলোগুলি দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দিল্লি এনসিআরের মধ্যে গুরুগ্রাম গল্ফ কোর্স রোড সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ওই সমস্ত বিলাসবহুল বাড়ি। মুম্বইয়ে বিক্রি হওয়া এই ধরনের বাড়ির সংখ্যা ৬৯ শতাংশ বলে জানা গিয়েছে।
সমীক্ষকেরা জানিয়েছেন, গত তিন বছরে বিক্রি হওয়া ১০০ কোটির বেশি মূল্যের অ্যাপার্টমেন্টগুলির বেশির ভাগের সুপার বিল্ট আপ এলাকা ১০ হাজার থেকে ১৬ হাজার বর্গফুট। এর চেয়ে বেশি আয়তনের বাড়ির দর সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।