ধরা যাক, অষ্টমীর অঞ্জলিতে পছন্দের লাল-নীল নকশার শাড়ির সঙ্গে পরার জন্য সাদা পাফ স্লিভ সাবেক ব্লাউজ বেছে রেখেছেন। আচমকা কেউ বলে গেল, যেহেতু আপনার চেহারা ভারী, তাই এমন ব্লাউজ মানাবে না! ব্যস! পুজোর সকালে ওমনি মনখারাপ!
কিংবা হয়তো সরু স্লিভের টকটকে লাল ব্লাউজ, কালো শাড়িতে নবমীর রাতে দুর্দান্ত সেজেছেন। হঠাৎ মাথায় এল আপনাকে স্লিভ্লেস ব্লাউজটি আদৌ মানাচ্ছে কিনা! পুজোর সাজটাই জলে যায় আর কি!
ফ্যাশন নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলবে। তা বলে কী নিজের মতো সাজবেন না? প্রচলিত ধারণা বা অন্যের কথায় কান না দিয়ে বরং আস্থা রাখুন নিজের আত্মবিশ্বাস আর পছন্দে। রইল তারই কিছু টিপস।
প্রচলিত ধারণায় কান দেবেন না-
সাজগোজ নিয়ে সময় হরেক মিথ বা গুজব ছড়িয়ে থাকে চারপাশে। কিন্তু এ রকম ভাবনায় কান না দিয়ে নিজের স্টাইল নিয়ে বরং খানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন। পছন্দ মাফিক বেছে নিন আপনার মনের মতো সাজ। তাতে স্টাইল স্টেটমেন্ট অন্য রকম হবে। আত্মবিশ্বাসও বজায় থাকবে।

সাজে থাকুক আত্মবিশ্বাস ছবি সৌজন্য প্রিন্টারেস্ট
ডিজাইনার পরমা ঘোষের মতে- অনেকেই ভাবেন, যাঁদের চেহারা বা হাতের উপরের অংশ ভারী, তাঁরা পাফ স্লিভের ব্লাউজ পরলে হাত আরও ভারী লাগে দেখতে। আসলে কিন্তু বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টো। চেহারা ভারী হলেও পাফ স্লিভ ব্লাউজের সাহায্যে খুব সহজেই আপনি মানানসইও কোন স্টাইল করে নিতে পারেন। পরমার পরামর্শ, এ সবে কান না দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাজুন পছন্দ মতো ব্লাউজের ডিজাইন ও কাটে।
এছাড়াও অন্যান্য নানা বিষয় নিয়েও হরেক প্রচলিত ধারণা আছে ফ্যাশন জগতে। অনেকে মনে করেন লাইনিং দিলে ব্লাউজে গরম লাগে বেশি। কিংবা কাপড় মোটা হয়ে যাওয়ায় সাইজে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ভাল এমব্রয়ডারি করা ব্লাউজকে টেকসই করে তুলতে অবশ্যই লাইনিং জরুরি। তা না হলে ঘামে বা ঘষা লেগে সরাসরি ব্লাউজের ক্ষতি হতে পারে।
অনেকের মতে আবার হাতের উপরের অংশ ভারী হলে স্বচ্ছ গ্লাস হাতা ব্লাউজ মানায় না। পরমা এ তত্ত্বও উড়িয়ে দিয়েছেন! নিজের ডিজাইনের উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, যে কোনও চেহারার গড়নেই এ ধরনের ব্লাউজ পরা যায়। যিনি পরছেন, তিনি নিজের সাজ, পোশাক ও লুক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেই আর কোনও সমস্যা নেই।
এমন আরও একটি মিথ বলে, গায়ের রং চাপা হলে বা শরীরের গড়নের ফারাকে সব রং মানায় না। তাতে থোড়াই কেয়ার! পুজোয় সাবেক সাজে বেছে নিন সাদা শিথলি পাফ স্লিভ ব্লাউজ। এগুলি সিল্ক, সুতি- সব রকমের শাড়ির সঙ্গে ভাল মানায়, আবার সব রঙের শাড়ির সঙ্গেও পরা যায়। এ ছাড়া অবশ্যই হাতে থাক খুব সুন্দর ফিটিংসে মনের মতো কালো এবং উজ্জ্বল লাল রঙের ব্লাউজ, যা অনেক রকম শাড়ির সঙ্গেই পরতে পারবেন।
ফলে কে কী বলছে চুলোয় যাক! এই পুজোয় চোখ থাকুক রকমারি ব্লাউজের সম্ভারে। আর চুটিয়ে সাজুন প্রতিদিন!
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।