প্রতীকী ছবি।
আমরা এর আগের একটি লেখায় আলোচনা করেছি বিদেশে বিনিয়োগের জন্য কী জাতীয় ফান্ড আমাদের সামনে রয়েছে। এ বার আসুন চটজলদি দেখা নেওয়া যাক কেন বিদেশের বাজারে বিনিয়োগ করব।
বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি থেকে শুরু করে বিনিয়োগ উপদেষ্টারা সবাই বলেন লগ্নি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা। উদাহরণ হিসাবে বলা যাক, আপনি শুধুই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বিনিয়োগ করে এমন ফান্ড বেছে নিয়েছেন। এ বার তথ্যপ্রযুক্তির শেয়ার বাজারে মার খেতে শুরু করল। তখন আপনার বিনিয়োগও মার খাবে। কিন্তু আপনার টাকা যদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে উপদেষ্টার পরামর্শ মেনে নানান ক্ষেত্রে ছড়ানো থাকত তা হলে এক বিনিয়োগের ক্ষতি অন্য বিনিয়োগের লাভে পুষিয়ে যেত।
আর এটাই বিদেশের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ জাপটে ধরার প্রথম কারণ। আপনি দেশের বাজারে বিনিয়োগ করে চললে, আপনার লাভ-ক্ষতি দেশের বাজারের ওঠা-পড়ার উপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু যদি দেখে শুনে বিদেশের বাজারে লগ্নি করা যায় তা হলে এখানকার বাজার যখন পড়ছে তখন বিদেশের যে বাজারের অবস্থা ভাল তার সুযোগ নিয়ে বিনিয়োগের খাতায় লাল দাগ এড়ানো যায়।
মাথায় রাখতে হবে, অনেকেই মনে করছেন দেশের বাজার ইতিমধ্যেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। তার মানে অনেকেই আছেন যাঁরা অন্যটাও বিশ্বাস করেন। কিন্তু যদি প্রথম দল যা মনে করছেন বাজার আগামী দিনে তা সত্যি প্রমাণ করে দেয়? তা হলে তো আপনারই ক্ষতি! তাই কী দরকার কে ঠিক তা বাজার দিয়ে যাচাই করে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করার? টাকা যখন আপনার, তখন তাকে সামলে রাখাই ভাল। আর যদি বিদেশের বাজারে বিনিয়োগ করে সেই বাজার থেকে বেশি লাভ তুলে দেশের তুলনামূলক স্থবির বাজারের লগ্নির খরচ মিটিয়ে ফেলা যায় তা হলে মন্দ কী?
কিন্তু ঝুঁকিগুলোও মাথায় রাখতে হবে। বেশ কিছু বছর ধরেই ডলারের মূল্যে টাকার দাম পড়ছে। আপনি টাকায় বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু তা আসলে বিনিয়োগ হচ্ছে বিদেশি মুদ্রায়। আমেরিকার বাজারে বিনিয়োগ করলে আপনি তা আসলে ডলারে করছেন। আজ যে টাকা বিনিয়োগ করছেন, টাকার দাম পড়তে থাকলে কাল কিন্তু লগ্নি ভাঙালে আপনি দু’ভাবে লাভ করতে পারেন।
প্রথমটা তো সোজা। আপনার বিনিয়োগের ন্যাভ ডলারের দামে বাড়ায় আপনার ইউনিট বিক্রি করে যে ভাবে দেশের বাজারে লাভ ঘরে তোলেন সে ভাবেই লাভের সুযোগ নিলেন। কিন্তু আপনার সেই লাভ আরও বেশি হবে যদি ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যায়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় আপনি যখন বিনিয়োগ করেছিলেন তখন হয়ত ডলারের দাম ছিল ৭০ টাকা। যখন বিক্রি করলেন তখন ১ ডলারের দাম হয়ত ৭৫ টাকা। তাই ডলারে ন্যাভ এক থাকলেও টাকার দাম পড়ায় আপনার লাভ ঘরে তোলা ঠেকায় কে! তার উপর তো ন্যাভ বাড়ার গল্প রয়েছেই!
এটার উল্টোটাও ঘটতে পারে। আপনার ইউনিটের ন্যাভ বাড়ল কিন্তু তুলনামূলক ভাবে টাকার দাম ডলারে এমন বাড়ল যে আপনি সেই লাভ চোখেই দেখতে পেলেন না। তাই ঝুঁকির এদিকটাও মাথায় রাখতে হবে বইকি।
রয়েছে আর এক রকম ঝুঁকি। আর তা হল রাজনৈতিক। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, যে দেশে আপনি বিনিয়োগ করেছেন সেই দেশে আফগানিস্তানের মতন পরিস্থিতি তৈরি হল। তা হলে কিন্তু আপনার পুরো বিনিয়োগই জলে যেতে পারে। তাই কোন দেশে আপনার বিনিয়োগের টাকা ঢালা হচ্ছে তা মাথায় রাখাটা জরুরি।
উল্টোদিকে, মনে রাখতে হবে যে আপনি যদি সেই ফান্ডে বিনিয়োগ করেন যা দেশের বাজারে টাকা ঢালে না, তা হলে সেই ফান্ডের বিনিয়োগ শেয়ারে লগ্নি হলেও করের জন্য ঋণপত্রে বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে লঙ টার্ম বা শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স দিতে হতে পারে আপনাকে।
তবে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আজই আপনার উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করুন। বেছে নিন বিদেশের ফান্ড। ছড়িয়ে দিন বিনিয়োগের ঝুঁকি। লাভ আপনারই।