মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
শান্তিপুরের সরকারি কর্মসূচি থেকে মতুয়াদের ‘বার্তা’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, লোকসভা ভোটে এ বার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর দলকে সমর্থন জানানোরও আবেদন জানালেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা। মতুয়া বলয়ে সরকারি কর্মসূচি করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়েও মমতা আবার সরব হন বৃহস্পতিবার।
শান্তিপুর বিধানসভা আসনটি রানাঘাট লোকসভার অন্তর্গত। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে রানাঘাট আসন জিতেছিল বিজেপি। গোটা রানাঘাট লোকসভার বৃহদাংশ জুড়ে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। গতবার মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ আসনও জিতেছিল গেরুয়া শিবির। বস্তুত, ২০১১ সালের বিধানসভা থেকে মতুয়া ভোট ছিল তৃণমূলের সঙ্গে। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে মতুয়া সমর্থন তৃণমূল থেকে ঢলে পড়ে বিজেপির দিকে। ঠাকুরনগরে মতুয়াবাড়িতে ঠাকুর পরিবারও রাজনৈতিক ভাবে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। তৃণমূলের মমতাবালা ঠাকুরের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করে তাঁরই ভাসুরের ছেলে শান্তনু ঠাকুরকে। ভোটে জিতে শান্তনু এখন কেন্দ্রের মন্ত্রী।
২০১৯ সালের লোকসভায় বিজেপির দিকে মতুয়া সমর্থনের নেপথ্যে কাজ করেছিল নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। মতুয়াদের শিকড় ছিল বাংলাদেশে। তাঁরা জাতিগত ভাবে নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত। তার পরে পাঁচ বছর কেটে গেলেও সিএএ কার্যকর হয়নি। এ নিয়ে শান্তনুও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আরও একটি লোকসভা ভোট যখন আসন্ন, তখন আবার সিএএ কার্যকরের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মমতা শান্তিপুরে বলেন, ‘‘আপনারা এমনিতেই নাগরিক। এখানে ভোট দেন, রেশন নেন, পড়াশোনা করেন, সব করেন! তা হলে আবার আপনাদের নাগরিকত্বের প্রয়োজন কী? ওরা আপনাদের মিথ্যা কথা বলছে।’’ তৃণমূল নেত্রী বৃহস্পতিবার আরও একবার বলেন, বাংলায় তিনি এনআরসি কার্যকর করতে দেবেন না।
মতুয়াদের মধ্যে অধুনাপ্রয়াত বড় মা বীণাপাণি দেবীকে নিয়ে আবেগ রয়েছে। মমতা সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘যখন বড়মাকে কেউ দেখতেন না, তখন আমি দেখতাম। তখন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না।’’ বস্তুতপক্ষেই বড়মার সঙ্গে মমতার সখ্য ছিল। যদিও ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে মমতা তথা তৃণমূলের সেতুবন্ধনের কাণ্ডারী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এখন তিনি রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। তবে তিনি এখনও খাতায়কলমে মন্ত্রী রয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। লোকসভা ভোটের সময় জ্যোতিপ্রিয়ের না থাকা মতুয়া এলাকায় তৃণমূলের জন্য ‘ধাক্কা’ বলেই দলের একাংশের অভিমত। সে কারণেই মমতা সরাসরি মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে ‘বার্তা’ দিয়েছেন বলেও মনে করছে শাসকদলের ওই অংশ।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও দেখা গিয়েছিল, দক্ষিণবঙ্গের অন্য এলাকার চেয়ে ‘মতুয়া গড়ে’ বিজেপির ফল ভাল হয়েছিল। যদিও তা ধরে রাখতে পারেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির টিকিটে জিতে কোনও বিধায়ক চলে গিয়েছেন তৃণমূলে। উপনির্বাচনে আসন হারাতে হয়েছে পদ্মশিবিরকে। লোকসভা নির্বাচনের আগে আবার মতুয়া এলাকায় ‘তৎপরতা’ বাড়িয়েছে বিজেপি। সেটা বুঝেই ধুরন্ধর রাজনীতিক মমতাও পাল্টা বার্তা দিলেন মতুয়াদের জন্য।