Advertisement
E-Paper

‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করব!’ তৃণমূল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে ঘোষণা প্রকাশচিকের, চার দিনে এই নিয়ে তৃতীয় ইস্তফা

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ভাঙন শুরু হয় গত সোমবার। প্রথমে সুখেন্দুশেখর রায়, তার পরে সুস্মিতা দেব সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। দু’জনেই তৃণমূলও ছাড়েন। এ বার সেই একই পথে হাঁটলেন প্রকাশচিক বরাইক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১১:০৬
প্রকাশচিক বরাইক।

প্রকাশচিক বরাইক। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যসভায় আরও দুর্বল হল তৃণমূল। চার দিনের মধ্যে সাংসদ পদ ছাড়লেন তিন জন। ছাড়লেন দলও। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিলেন প্রকাশচিক বরাইক। ইস্তফা দিয়ে বললেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করব।” এর আগে সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব সাংসদ পদ ছেড়েছেন। তিন জনই সাংসদ পদ ছাড়ার পাশাপাশি তৃণমূলও ত্যাগ করেছেন। আবার লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর শত্রুঘ্ন সিংহ ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। শত্রুঘ্নের দাবি, কঠিন সময়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাবেন না।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ভাঙন-পর্ব শুরু হয়েছিল গত সোমবার। ওই দিন রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর। বুধবার সুস্মিতা সাংসদ পদ ছাড়েন। তৃণমূলও ছেড়ে দেন। এ বার সুখেন্দু, সুস্মিতার দেখানো পথে হেঁটে সাংসদ পদ এবং দল ছেড়ে দিলেন তৃণমূলের তফসিলি উপজাতির অন্যতম মুখ প্রকাশচিক।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত ছিলেন প্রকাশচিক। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। পরে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার থেকে প্রার্থীও করা হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরাস্ত হন সেই বার। সূত্রের খবর, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনেও প্রকাশচিককে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছিল তৃণমূলের অন্দরে। তবে শেষপর্যন্ত তা করা হয়নি।

ইস্তফার পরে দিল্লিতে প্রকাশচিক জানান, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জনতা যে রায় দিয়েছে, সেই রায়কে সম্মান জানাতেই তিনি সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন। দল ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এ-ও জানান, আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতোই কাজ করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল শুরু হয়েছে। ভাঙন ধরেছে পরিষদীয় দলে। লোকসভায় সংসদীয় দলেরও অধিকাংশ সদস্যই ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে। একই সঙ্গে রাজ্যসভাতেও ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে তৃণমূল।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট ১৩ জন সাংসদ ছিলেন। সোমবার থেকে একের পর এক ইস্তফায় এ বার সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে হল ১০। অন্য দিকে, লোকসভাতে ২৮ সাংসদের মধ্যে ‘মমতার অনুগত’ হিসাবে রয়ে গিয়েছেন মাত্র আট জন সাংসদ। যদিও ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের মধ্যেও কেউ কেউ ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। যেমন প্রতিমা মণ্ডলের দাবি এনডিএ-কে সমর্থনের কোনও চিঠিতে তিনি সই করেননি। শত্রুঘ্নও পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নিজ নিজ বাধ্যবাধকতা, ভয় বা লোভের কারণে হয়ত অনেকে মমতাকে ছেড়ে গিয়েছেন। কিন্তু আমি নীতিগত ভাবে দল বা নেত্রী— কাউকেই ছেড়ে যাব না।”

তিনি আরও বলেন, “কঠিন সময়ে আমি মমতাকে ছেড়ে যাব না। পটনায় নির্বাচনে হারের পর যখন আমি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যাঁরা আমাকে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে নীতিগতভাবে আমার অবস্থান হলো—এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা উচিত। আপাতত আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করব না।”

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy