রাজ্যে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। দলে ভাঙন-সম্ভাবনা রুখতেই তৃণমূল নেতৃত্ব এই কৌশলী পদক্ষেপ করলেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় এবং তার পরেই ভাঙন-সম্ভাবনার আবহে ছাত্র, যুব, শ্রমিক, মহিলা সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, সব কিছু যত্ন সহকারে বিচার-বিবেচনা করার পর পশ্চিমবঙ্গে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, “সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দল নিবিড় পর্যালোচনা, সাংগঠনিক মূল্যায়নের পথে হাঁটবে। তার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানো হবে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া জানানো হবে।”
বুধবার বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন দলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এক বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
বহিষ্কৃত ঋতব্রত বুধবার দুপুর পর্যন্তও দলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি পদে ছিলেন। তা ছাড়া বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত অনেকেই তৃণমূলের ব্লক বা জেলা স্তরের সংগঠনে বিভিন্ন পদে ছিলেন। দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে বিদ্রোহীদেরও কার্যত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিল তৃণমূল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল তৃণমূলের অন্দরে।
- সইকাণ্ড নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে জল্পনা জোরালো হতে থাকে, তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে?
- বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।
-
মেয়র পদে ইস্তফা দেননি ফিরহাদ হাকিম! জানিয়ে ১৯ জুন কলকাতা পুরসভায় অধিবেশন ডাকলেন মালা রায়
-
‘মহারাষ্ট্র মডেলে’ ঘাসফুল প্রতীক দখল? ‘নেত্রী’ মমতার সঙ্কট বাড়াতে চলেছেন ‘বহিষ্কৃত’-বিদ্রোহী ঋতব্রত?
-
মমতার পরিষদীয় দল ভাঙিয়ে মমতাকেই পরামর্শদাতা হিসাবে চান ঋতব্রত! দাবি, অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্কই নেই বিধানসভার
-
ন’বছরে দুই দল থেকে দু’বার বহিষ্কার! ‘দল ভেঙেই’ বিরোধী দলনেতা, রাজ্যসভা থেকে শুরু করে বিধানসভার ঋতব্রতকথা
-
দু’টুকরো জোড়াফুল, অভিষেকই কি কারণ, ভাঙনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা?