Advertisement
E-Paper

আদালতে নেওয়ার পথে ছোড়া হল ডিম, জুটল গোবরও! তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত সব্যসাচী ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে

সোমবার রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকায় সব্যসাচীর বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। রাতেই বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেতাকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৭:৪০
সব্যসাচী দত্ত। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম এবং গোবর ছোড়া হয়।

সব্যসাচী দত্ত। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম এবং গোবর ছোড়া হয়। — ফাইল চিত্র।

গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে। বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সোমবার বেশি রাতের দিকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত কয়েক দিন ধরেই তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম-বর্ষণের ঘটনা দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবার বিধাননগর থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়েও সেই দৃশ্য দেখা গেল। পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম এবং গোবর ছোড়ে সব্যসাচীকে লক্ষ্য করে।

বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সব্যসাচীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী। তোলাবাজির পাশাপাশি হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা চেয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকায় সব্যসাচীর বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। রাতেই বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেতাকে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয় সব্যসাচীকে।

ধৃতের আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সব্যসাচীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের গ্রেফতারি আইন মেনে হয়নি। সেই দাবির সাপেক্ষে পুলিশের দেওয়া নোটিসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নোটিসে দেওয়ার তারিখ এবং এফআইআরের তারিখ ভিন্ন। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয় সব্যসাচীর তরফে। যদিও এই তারিখ বিভ্রাট নিয়ে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, সেটা করণিকস্তরের ভুল।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সব্যসাচী। তবে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাস্ত হন। সোমবার সকালে থানা থেকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেই সময়ে সব্যসাচী অভিযোগকারীর প্রসঙ্গে বলেন, “তিনি নিজেই বিধাননগর উত্তর থানায় ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। তার পরে ২০১৮ সালে তাঁর পরিবারের লোক এবং এক ব্যবসায়ী আমার কাছে এসেছিলেন তাঁকে বের করিয়ে দেওয়ার জন্য।”

উল্লেখ্য, রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের আমলে দুর্নীতি-বেনিয়মের অভিযোগে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। সোমবারই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান। নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করেন রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর আধিকারিকেরা। সূত্রের দাবি, নেপাল সীমান্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির পর সোমবার রাতেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচীও।

গত মাসে পুরনিয়োগ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। পরে সুজিত ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলরও গ্রেফতার হন পুলিশের হাতে।

Sabyasachi Datta TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy