Advertisement
E-Paper

মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল অফিসে দু’ঘণ্টা তল্লাশি সিআইডি-র! উপস্থিত দলীয় নেতার দাবি, কিছু বাজেয়াপ্ত হয়নি

সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলের ওই কার্যালয়ে গিয়েছে রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর। এ ছাড়া, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও পৌঁছোয় সিআইডি-র দল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৫:৩৮
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে সিআইডি-র দল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে সিআইডি-র দল। —নিজস্ব চিত্র।

কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে গেল সিআইডি-র দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন এই কার্যালয়টি। সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলের ওই কার্যালয়ে যায় রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর। সঙ্গে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে প্রথমেই ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেতার সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় ঘণ্টা দুই কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি। অন্য দিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও পৌঁছোয় সিআইডি-র দল। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। এই মামলায় অতীতে বার বার তলব করলেও ভবানী ভবনে হাজিরা দেননি অভিষেক।

সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩০ মে প্রথম অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তৃণমূল সাংসদকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক হাজিরা না-দিয়ে সিআইডির থেকে ১৪ দিনের সময় চান। তবে সিআইডি অভিষেককে সময় দেয়নি। ১ জুন আবার কালীঘাটের বাড়ি গিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ সংবলিত নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। কিন্তু সোমবারও হাজিরা দেননি অভিষেক। সোমবারও তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তৃতীয় নোটিস ধরিয়ে আসে সিআইডি। মঙ্গলবারই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার আগে কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যায় সিআইডি-র দল।

মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি-র একটি বড় দল কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছোয়। বাসে করে মহিলা পুলিশকেও নিয়ে যাওয়া হয়। তবে প্রথমে অফিসের বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সিআইডি-র দলকে। গেট খুলে বেরিয়ে আসেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। সিআইডি-র দলের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। শুভাশিস দাবি করেন, মমতা এবং অভিষেক দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয় দেখভালের দায়িত্বে। যেহেতু মমতা, অভিষেক কলকাতায় নেই, তাই তিনি কার্যালয়ে সিআইডি-কে ঢুকতে দিতে পারবেন না।

সিআইডি-র দল বার বার শুভাশিসকে জানায়, তারা তল্লাশি করতে এসেছে। সেখানে কে উপস্থিত আছেন, তার সঙ্গে তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। সিআইডি-র দল অভিষেককে পাঠানো নোটিস সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। সেই নোটিস শুভাশিসকে দেখায় তারা। তল্লাশি করার অনুমতি চায়। কিন্তু শুভাশিস জানান, তিনি কোনও ভাবেই ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিতে পারেন না। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা নেই, তাঁদের কার্যালয়ে আমি কী ভাবে ঢোকার অনুমতি দেব?’’

৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। ঠিকানাটি যেমন তৃণমূলের কার্যালয়, তেমনই একই ঠিকানায় থাকেন মমতাও। বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে উপস্থিতিত থাকার কারণে মমতা এখন দিল্লিতে। সঙ্গে রয়েছেন অভিষেকও। তার মধ্যেই কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে গেল সিআইডি-র দল। তারা জানায়, সই-কাণ্ডের তদন্তে তল্লাশি চালাতে এসেছে। আইন মেনেই তারা তল্লাশি অভিযানে এসেছে। ভিতরে ঢোকার অনুমতি পেতে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধে জড়ায় সিআইডি। অনেক টালবাহানার পর বিকেল ৪টের কিছু পরে তৃণমূল কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারে সিআইডি দল।

সই-কাণ্ডে সিআইডি-র আতশকাচের নীচে রয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যে বৈঠকে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটা হয়েছিল কালীঘাটের এই কার্যালয়ে। সূত্রের খবর, সে দিনের বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তকারীরা মমতার বাড়ির লাগোয়া কার্যালয়ে যান। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহও করতে চায় সিআইডি। যদিও শুভাশিস বলেন, ‘‘আপনাদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই. আপনারা দু’-তিন দিন সময় দিন।’’ তবে শেষপর্যন্ত কালীঘাটে তৃণমূলের অফিসে ঢোকে সিআইডি-র দল। বাইরে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় দু’ঘণ্টা পর কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যায় সিআইডি-র দল। তার পরে শুভাশিস দাবি করেন, কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি সিআইডি।

বিকেল সাড়ে ৪টের পর কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছোন বেলেঘাটার সাংসদ কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘দলীয় কাজে আমি কার্যালয়ে এসেছিলাম। এখানে এসে শুনলাম তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র দল এসেছে।’’ তার পরেই কুণাল বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যখন সিআইডি গিয়েছিল, তখন পূর্ণ সহযোগিতা করেছি।’’ বেলেঘাটার সাংসদ মনে করেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো দৃষ্টিকটূ। ওঁর কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত ছিল।’’ কুণালের পাশাপাশি কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সিআইডি-র দলকে মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে। তারা সাক্ষী হিসাবে বিজেপি-র দুই কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে এসে বলেও অভিযোগ কুণালের। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এর জবাব দেবে।’’


Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy