অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের। দলের একের পর এক অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বার বার বেআব্রু হচ্ছে অন্দরের ‘সমস্যা’। শনিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠকে তা আরও একবার প্রকট হল। এমনকি বৈঠকের আগে কুণাল ঘোষের জন্মদিন উদ্যাপনও তা ঠেকিয়ে রাখতে পারল না।
তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত মামলায় আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার দলের অন্য মামলাগুলি নিয়েও কল্যাণের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের মতের অমিল দেখা দিল। সূত্রের খবর, কিছু মামলার তাঁর বদলে অন্য আইনজীবীদের উপরে ভরসা করছে দল এবং তাতেই আপত্তি কল্যাণের। কে কোন মামলায় লড়বেন, তা নিয়ে বৈঠকে কল্যাণের সঙ্গে মতানৈক্য হয়েছে। শনিবারের বৈঠকেও এই বিষয়টি উঠে আসে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের কিছু মামলায় কল্যাণকে বাদ দিয়ে অন্য আইনজীবীদের রাখার কথা ভাবছেন নেতৃত্ব। সেই অন্য আইনজীবীদের তালিকায় রয়েছেন মানেকা গুরুস্বামীও।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরেছে। তা নিয়ে মামলা চলছে। ভাঙন ধরেছে সংসদীয় দলেও। তার উপরে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘তালা’ পড়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এ অবস্থায় অভিষেকের সঙ্গে মামলা নিয়ে মতবিরোধের পর এ বার দলের অন্য বিভিন্ন মামলায় আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নেতৃত্ব ও কল্যাণের এই মতানৈক্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শনিবারের এই বৈঠকের শুরুটা হয়েছিল খোশমেজাজেই। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে শুরু হয় বৈঠক। কারণ, এ দিন ছিল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণালের জন্মদিন। শনিবার ৫৮ বছরে পড়লেন কুণাল। তাঁর জন্মদিন পালন করতে কেক কিনে রেখেছিলেন মমতা। ছিল জন্মদিন উদ্যাপন করার বিশেষ মোমবাতিও। দলনেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেক খাইয়ে দেন কুণাল। হয় গানও।
আরও পড়ুন:
যখন কেক কাটা হয়, তখন সকলে উঠে দাঁড়িয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা দেন বিধায়ককে। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের প্রথম বৈঠকে অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান জানাতে সকলকে উঠে দাঁড়াতে বলেছিলেন দলনেত্রী। তা নিয়ে বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। তবে শনিবারের উঠে দাঁড়ানো নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। উঠে দাঁড়িয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গানের সুরে কুণালকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান সকলে। পরে ‘শুভ জন্মদিন কুণাল’ বলে আরও একটি গান পরিবেশন করেন মমতা। তার পরে কুণালের জন্মদিনের কেক সকলকে পরিবেশন করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে সূত্রের খবর, এই আনন্দ আয়োজনও ঠেকিয়ে রাখতে পারল না অন্দরের মতবিরোধ।
শনিবারের বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। দলের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিককে। বস্তুত, ফিরহাদ বর্তমানে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে বসছেন। সুদীপ এবং পার্থও এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত ভাবেই তিন জনের নাম বাদ গিয়েছে জাতীয় কর্মসমিতি থেকে। অন্য দিকে, জাতীয় কর্মসমিতিতে নতুন সংযোজিত হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ জনের একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। কমিটিতে রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অসীমা পাত্রেরা। এ ছাড়া তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।