সই-কাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল। আর তার জেরে এখনও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে কারও নামে সিলমোহর দেননি স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই প্রেক্ষাপটে আবার তৃণমূলের তরফে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসাবে আবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের উপ-দলনেতা হিসাবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র এবং মুখ্য সচেতক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
অভিষেক তাঁর চিঠিতে অতীত স্মরণ করেছেন। ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের কথা মনে করিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেন, পূর্বের নজির এবং বিধানসভার দীর্ঘ দিনের প্রথা মেনে বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ২০০১ সালে তৃণমূলের তরফে প্রয়াত পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তৎকালীন স্পিকার সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলেন। ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে একই প্রথা মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিরোধী দলনেতা হিসাবে সুপারিশ করেছিল। তৎকালীন স্পিকার তা মেনে নিয়েছিলেন।
সই জাল-কাণ্ড নিয়েও বিড়ম্বনা বাড়ে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলের। সোমবার নবান্নে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধায়কদের সই নকল করার বিষয়ে স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানাকে জানানো হয়। এফআইআর করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার বিধানসভায় অভিষেকের এই চিঠি পৌঁছে দেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সেই চিঠি প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমি জানি না চিঠিতে কী লেখা আছে।’’ একই সঙ্গে আবার পুরনো অভিযোগই তোলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক স্পিকারের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তাতে অনেকের সই বড় অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) লেখা। যে বিধায়ক বৈঠকে ছিলেন না, তাঁর নামও লেখা ছিল।
স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানান কুণাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের আর এক বিধায়ক অসীমা পাত্র। স্পিকারের সচিব জানিয়েছেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া বিরোধীদের কোনও চিঠি গ্রহণ করা যাবে না। কুণালদের চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। তাঁরা স্পিকারের টেবিলে চিঠি রেখে চলে আসেন বলে জানান কুণাল। তবে চিঠি কী বিষয়ে লেখা, তখন তা জানাননি তিনি। এই বিষয়ে তাপস বলেন, ‘‘যেহেতু তদন্ত চলছে, তাই হয়তো চিঠি নেওয়া হয়নি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল তৃণমূলের অন্দরে।
- সইকাণ্ড নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে জল্পনা জোরালো হতে থাকে, তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে?
- বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।
-
মেয়র পদে ইস্তফা দেননি ফিরহাদ হাকিম! জানিয়ে ১৯ জুন কলকাতা পুরসভায় অধিবেশন ডাকলেন মালা রায়
-
‘মহারাষ্ট্র মডেলে’ ঘাসফুল প্রতীক দখল? ‘নেত্রী’ মমতার সঙ্কট বাড়াতে চলেছেন ‘বহিষ্কৃত’-বিদ্রোহী ঋতব্রত?
-
মমতার পরিষদীয় দল ভাঙিয়ে মমতাকেই পরামর্শদাতা হিসাবে চান ঋতব্রত! দাবি, অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্কই নেই বিধানসভার
-
ন’বছরে দুই দল থেকে দু’বার বহিষ্কার! ‘দল ভেঙেই’ বিরোধী দলনেতা, রাজ্যসভা থেকে শুরু করে বিধানসভার ঋতব্রতকথা
-
দু’টুকরো জোড়াফুল, অভিষেকই কি কারণ, ভাঙনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা?