Advertisement
E-Paper

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মমতার বাড়িতে অভিষেক, রবিবার ফের হাজিরার নির্দেশ

বৃহস্পতিবারই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক। বিকেল ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামে। তার পর সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৭:৫৩
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

প্রবেশ করেছিলেন সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ, প্রস্থান রাত ১১:৩০!-এ স‌ই-কাণ্ডে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সামলে ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। ভবানী ভবনে ঢোকা বা বেরনোর সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি অভিষেক। ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে ফের হাজির হতে বলেছেন তদন্তকারীরা।

বৃহস্পতিবারই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক। বিকেল ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামে। তার পর সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান কালীঘাটের বাড়িতে। বিকেল পৌনে ৬টা নাগাদ অভিষেক আবার বাড়ি থেকে বেরোন এবং সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান।

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তাঁকে একাধিক বার ডাকা হলেও তা এড়িয়েছেন এত দিন। এক বার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চেয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পরের বার রাজনৈতিক কারণে তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। এর মধ্যেই সিআইডি গ্রেফতার করতে পারে ভেবে অভিষেক কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আবেদন জানিয়েছিলেন রক্ষাকবচের। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। আদালত তাঁকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে বলেছিল। বলা হয়েছে, অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে সিআইডি এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার আবার শুনানি হবে। তত দিন পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না অভিষেকের বিরুদ্ধে।

শুনানির আগে অভিষেকের এই মামলা থেকে সরে যান তাঁর আইনজীবী তথা দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। মমতাকে তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে থেকে যে কোনও এক জনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মমতা কী করবেন, অভিষেক নিজে কী করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশের পর অভিষেকের হাজিরা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সিআইডি-র তরফেও তাই বিকেল থেকেই নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভবানী ভবনে। বাড়তি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, র‌্যাফ মোতায়েন করা হয় সেখানে। এ ছাড়া, রাখা হয়েছিল কাঁদানে গ্যাসও। অভিষেক পৌঁছোলে সেখানে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করতেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করে সিআইডি।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে। —নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। নোটিসও ধরানো হয় অভিষেককে। কিন্তু তিনি এক বারও হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর অভিষেককে দেখে কেউ কেউ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। অভিষেক নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ইতিমধ্যে সইকাণ্ডের তদন্ত করতে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।

Abhishek Banerjee CID TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy