Advertisement
E-Paper

বিধানসভার পর লোকসভাতেও মমতার হাতছাড়া তৃণমূল! ২০ জন সাংসদের নাম-সহ স্পিকারকে চিঠি লিখলেন কাকলি ও শতাব্দী

লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলেও এ বার ধরল ভাঙন। স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সূত্রের খবর, জোড়াফুলের বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১৫:৩৪
(বাঁ দিকে) কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এ বার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভায় ভাঙন ধরল তৃণমূলে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।

জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা সোমবার চিঠিও পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে।

যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন (বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুলের প্রয়াণের পরে ওই আসনটি ফাঁকা রয়েছে)। এ অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদ রয়েছেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে।

এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক দিল্লিতেই রয়েছেন। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে এককাট্টা দেখাতে বৈঠকে বসেছেন মমতা, সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদবেরা। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরল। মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল।

তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক হিসাবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ হুইপ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা স্পিকারের দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দফতরে আগেই জানানো হয়েছিল।” যদিও বারাসতের সাংসদের বক্তব্য, সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনও তিনিই। দলের অন্য সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কাকলির।

পরে এ বিষয়ে কাকলি পিটিআই-কে বলেন, “আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএ-র সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।”

লোকসভার স্পিকারকে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এই চিঠি পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে আসার আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সাংসদেরা। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকারেরা। বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসূফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও ভেসে আসছে। ঘটনাচক্রে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোমবার সকালে দিল্লিতে গিয়েছেন। দুপুরে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যান তিনিও।

দুপুরের ওই বৈঠকের পরে সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে শতাব্দীর বাড়িতে ফের একবার বৈঠকে বসেন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীও গিয়েছেন সেখানে।

সংক্ষেপে
  • বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
  • লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
  • জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
TMC Lok Sabha West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy