এক রাতের দাম সাড়ে চার কোটি! যৌনতা চলে প্রকাশ্যেই, রয়েছে বিলাসিতার চূড়ান্ত উপকরণ, যেখানে ‘তৃপ্ত’ হতে যান দম্পতিরাও
এই দুনিয়ায় এমনও একটি যৌনপল্লি আছে যেখানে রাজা-বাদশাদের মতো স্বপ্নের এক রাত কাটাতে গেলে খরচ পড়ে চার কোটি টাকারও বেশি। মরু উপত্যকার একাংশে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এই যৌনপল্লি।
দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে যৌনপল্লি বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘা-ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকা পায়রার খোপের মতো ঘর। যৌনপল্লি বলে পরিচিত এলাকাগুলিতে আলো-আঁধারির আড়ালেই চলে বিশ্বের প্রাচীনতম ব্যবসা— দেহব্যবসা। যৌনপল্লির কথা উঠলে প্রায়শই শোষণ, অত্যাচার এবং দারিদ্র্রের চিত্র উঠে আসে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে।
আবার জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইৎজ়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নিউ জ়িল্যান্ড-সহ অনেক দেশে দেহব্যবসা আইনত বৈধ এবং করযোগ্য পেশা। বহু দেশেই যৌনবৃত্তিতে কোনও রাখঢাক নেই। প্রকাশ্যেই চলে যৌনতার উদ্যাপন। কোথাও আবার যৌনপল্লিগুলিকে চাক্ষুষ করার টানে দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
এই দুনিয়ায় এমনও একটি যৌনপল্লি আছে যেখানে রাজা-বাদশাদের মতো স্বপ্নের এক রাত কাটাতে গেলে খরচ পড়ে চার কোটি টাকারও বেশি। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে মার্কিন রাজ্য নেভাদার শুষ্ক শহর পাহরাম্পের উপকণ্ঠে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই যৌনপল্লি।
লাস ভেগাস থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই ‘রিসর্ট সিটি’। এই শহর জেগে থাকে সারা রাত। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জুয়া, কেনাকাটা, বিলাসিতাও বাড়তে থাকে। অথচ এই জনবহুল শহরটিই একদা জনশূন্য একটা মরু উপত্যকা বলে পরিচিত ছিল। রূপ বদলে ক্রমে হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ শহর।
সেই মরু উপত্যকারই একাংশে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল যৌনপল্লি, শেরি’স র্যাঞ্চ। দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিলাসবহুল যৌনপল্লি হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে এটি। নেভাদার আইন অনুসারে, এই প্রতিষ্ঠানটি অভিজাত ও ধনকুবের গ্রাহকদের যৌন পরিষেবা দিয়ে থাকে। এখানকার এক একটি প্যাকেজ সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
নেভাদা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রদেশ যেখানে কিছু নির্দিষ্ট কাউন্টিতে যৌনব্যবসা আইনসম্মত। তবে লাস ভেগাস এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোতে এই সুযোগ নেই। পাহারাম্প নাইন কাউন্টিতে রয়েছে শেরি’স র্যাঞ্চ। যেখানে আইনি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা চলে। অর্থাৎ, এখানে লুকোছাপা নেই, নেই কোনও আইনি চোখরাঙানি। আইনি বৈধতা নিয়ে খোলাখুলি ভাবে যৌন ব্যবসা চলে এখানে।
একে যৌনপল্লি বললে ভুল বলা হয়। বরং একটি বিলাসবহুল যৌন-রিসর্ট এবং স্পা বলেই মনে হয়। শহরের মধ্যে যেন এটি একটি ছোট শহর। শুধু যৌন পরিষেবা নয়, এখানে হোটেল, বার, থিম্ড রুম, পুল-সহ একটি পূর্ণাঙ্গ রিসর্টের অভিজ্ঞতা লাভ করেন গ্রাহকেরা। রিসর্টের সাজসজ্জায় বাড়তি চমক একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো, একটি স্পোর্টস বার এবং বিলাসবহুল লাউঞ্জ।
মজার বিষয় হল, শেরি’স র্যাঞ্চে ঢোকার জন্য কোনও টিকিট নেই। আসল খরচ ভিতরে বিক্রি হওয়া ‘এক্সক্লুসিভ ও কাস্টমাইজ়ড’ পণ্য। নিকটবর্তী লাস ভেগাসে ফর্মুলা ওয়ান রেস উইকএন্ডের মতো বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়ে শেরি’স র্যাঞ্চে ‘এক্সক্লুসিভ ভিআইপি প্যাকেজ’ পাঁচ লক্ষ ডলারে বিকোয় বলে সংবাদ প্রতিবেদনের দাবি, ভারতীয় মুদ্রায় যা সাড়ে চার কোটিরও বেশি।
কিন্তু এক রাতের জন্য কয়েক কোটি টাকা ‘উড়িয়ে’ গ্রাহক কী কী বিশেষ পরিষেবা ও আতিথ্যের সুযোগ পান? যাঁরা এই ভিভিআইপি প্যাকেজটি কেনেন তাঁদের রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হয় একটি ব্যক্তিগত বাংলোয়। সেখানে বিলাসিতার চরম উপকরণ প্রস্তুত থাকে। উচ্চ মানের, বিলাসবহুল এবং পরিমার্জিত খাবার পরিবেশন করেন অভিজ্ঞ রন্ধনশিল্পীরা।
আরও পড়ুন:
আছে সুরাপ্রেমীদের গলা ভেজানোর জন্য প্রিমিয়াম শ্যাম্পেনের ব্যবস্থা। পুরো এক রাতের জন্য ব্যক্তিগত সাহচর্য দেওয়ার জন্য হাজির থাকেন লাস্যময়ী যৌনকর্মীরা। প্রায় ২০ একর মরুভূমি জুড়ে বিস্তৃত এই যৌন কমপ্লেক্সটিতে কোনও গোপন লাল আলোর ছোট ছোট ঘরের স্থান নেই। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানোর জন্য ‘ব্রোথেল কান্ট্রি’ লেখা সাহসী সাইনবোর্ডই যথেষ্ট।
শেরি’স র্যাঞ্চের পরিচালন কর্তৃপক্ষের মতে, আইনের আওতায় থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পরিষেবা দিয়ে থাকেন তাঁরা। যৌনকর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, এই পরিকাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসাটি অবৈধ যৌন ব্যবসার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
নেভাদার আইন অনুযায়ী কঠোর নিয়ম রয়েছে এখানে। প্রায় ৮০ জন যৌনকর্মী এখানে যৌনব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মাত্র ২৫ জনেরই যে কোনও সময় পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি থাকে। তাঁরা স্বাধীন ভাবে ব্যবসা করেন। গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কথাবার্তা বলে পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে তাঁদের। বাকিরা রিসর্টের পরিচালন নিয়মানুসারে ব্যবসা করেন।
আমেরিকা জুড়ে রয়েছে এই রিসর্টের খ্যাতি। ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু পর্যটকও এর অদম্য হাতছানি এড়াতে পারেন না। তাই এখানকার কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতি মাসে সীমিত দিন কাজ করেও চোখধাঁধানো রোজগার করেন। বেতন তো যথেষ্টই, শোনা যায় এক এক জন কর্মী এক রাতের মধ্যেই ১০ লক্ষ টাকাও উপার্জন করে থাকেন।
ঐতিহ্যবাহী যৌনপল্লির ধারণা থেকে বহু যোজন দূরে সরে এসেছে শেরি’স র্যাঞ্চ। মোটা অঙ্কের মূল্যের বিনিময়ে গ্রাহকেরা নগ্ন কুস্তি দেখতে পারেন। দম্পতিদের যৌন প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। তবে এর জন্য আলাদা কয়েক হাজার ডলার জমা করতে হয়।
মৌলিক পরিষেবাগুলির দাম কয়েক হাজার ডলার। থিমভিত্তিক অভিজ্ঞতা, ফ্যান্টাসি প্যাকেজের জন্য বাড়তি খরচ করতে হবে। এখানে গ্রাহকেরা তাঁদের অভিজ্ঞতার ছবি তোলার সুযোগও পান।