Advertisement
E-Paper

বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরের ত্রাস! ‘অপারেশন জ্যাকবুট’ চালিয়ে ‘কাশ্মীরের ভূত’কে নিকেশ করেন ডোভাল

দশম শ্রেণি পর্যন্ত বেগপোরাতেই পড়াশোনা করেন রিয়াজ় নাইকু। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে পুলওয়ামা কলেজে গণিত নিয়ে ভর্তি হন তিনি। স্নাতক হয়ে একটি স্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৩
Operation Jackboot
০১ / ২৪

২০১৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে খতম হন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি। তাঁর মৃত্যুর পর কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ভার যায় ইয়াসিন ইট্টুর কাঁধে।

Operation Jackboot
০২ / ২৪

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইট্টুও নিহত হলে, কাশ্মীরে হিজবুলের নাশকতার ভার হাতে নেন যিনি, তিনি পরিচিত ছিলেন ‘কাশ্মীরের ভূত’ নামে। দেশে একের পর এক জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়েও অনেক দিন পর্যন্ত অধরা ছিলেন তিনি।

Operation Jackboot
০৩ / ২৪

কথা হচ্ছে হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ় নাইকু ওরফে বিন কাসেমের। কাশ্মীরের একসময়ের ত্রাস। ছ’বছর আগে ২০২০ সালের ৬ মে রিয়াজকে নিকেশ করে ভারতীয় সেনার যৌথবাহিনী।

Operation Jackboot
০৪ / ২৪

কে ছিলেন এই নাইকু? কাশ্মীরের ত্রাস নাইকুকে কী ভাবেই বা খতম করে ভারতীয় সেনা? এর নেপথ্যেও ছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর বা এনএসএ) অজিত ডোভাল। অজিতের নির্দেশে ‘অপারেশন জ্যাকবুট’ চালিয়ে শেষ করা হয়েছিল নাইকুকে।

Operation Jackboot
০৫ / ২৪

২০১৬ সালের ৮ জুলাই সেনাবাহিনীর এক অভিযানে নিহত হন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের ‘পোস্টার বয়’ হিসাবে পরিচিত বুরহান। তার জেরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল উপত্যকা।

Operation Jackboot
০৬ / ২৪

জঙ্গিনেতার শেষকৃত্যে শয়ে শয়ে মানুষের ঢল নামে ত্রালে। তাঁরা বিক্ষোভ দেখান পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরের ছ’মাস রক্তাক্ত হয়ে ওঠে উপত্যকা।

Operation Jackboot
০৭ / ২৪

সমাজমাধ্যমে নানা পোস্টের মাধ্যমে কাশ্মীরি যুবকদের জঙ্গিদলে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন বুরহান। বুরহানের মৃত্যুর পর দায়িত্ব যায় ইট্টুর হাতে। বছরখানেক পর বাহিনীর গুলিতে তাঁরও মৃত্যু হয়। এর পরে হিজবুল কমান্ডারের দায়িত্বে আসেন নাইকু। জম্মু ও কাশ্মীরের বেগপোরায় ১৯৮৫ সালের এপ্রিলে নাইকুর জন্ম। ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল কিশোর নাইকুর।

Operation Jackboot
০৮ / ২৪

দশম শ্রেণি পর্যন্ত বেগপোরাতেই পড়াশোনা করেন নাইকু। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে পুলওয়ামা কলেজে গণিত নিয়ে ভর্তি হন তিনি। স্নাতক হয়ে একটি স্কুলে গণিতের শিক্ষকতা শুরু করেন নাইকু। এ ছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের বিনামূল্যে পড়াতেন তিনি।

Operation Jackboot
০৯ / ২৪

প্রযুক্তির ব্যবহারে নাইকু ছিলেন খুবই দক্ষ। উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের মগজধোলাই এবং সন্ত্রাসের পথে টানার কাজ চালাতেন তিনি। মনে করা হয়, হিজবুলে তিনি যোগ দেন ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে।

Operation Jackboot
১০ / ২৪

ক্রমে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন নাইকু। বুরহানের মৃত্যুর পর থেকেই কাশ্মীরে নাশকতা ছড়ানোয় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু কমান্ডারের দায়িত্ব তিনি পাননি। তবে ইট্টুর মৃত্যুর পর হিজবুল কমান্ডার হন নাইকু। কাশ্মীরের ত্রাস হয়ে ওঠেন তিনি।

Operation Jackboot
১১ / ২৪

হিজবুল মুজাহিদিনের জন্য কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতা ছড়ানোর লক্ষ্যপূরণে নাইকু ছিলেন আদর্শ মুখ। শিক্ষিত হওয়ার কারণে এলাকার তরুণ সমাজের একাংশের কাছে জনপ্রিয়তাও বাড়ছিল তাঁর।

Operation Jackboot
১২ / ২৪

২০১৭ সালে জঙ্গিনেতা জাকির মুসা যখন হিজবুল মুজাহিদিন থেকে আলাদা হয়ে যান, তখন জঙ্গি সংগঠনটিকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নাইকু। মুসা আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ গঠন করেন। ২০১৯ সালের ২৩ মে ত্রালে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে খতম হন মুসা।

Operation Jackboot
১৩ / ২৪

পুলিশের স্পেশ্যাল অফিসারদের হত্যা-সহ অন্তত ১১টি সন্ত্রাসবাদী হামলার অভিযোগ ছিল নাইকুর বিরুদ্ধে। পুলিশকর্মীদের ইস্তফা দিতে বাধ্য করতে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁদের পরিবারের লোকদের অপহরণ করা ছিল নাইকুর অন্যতম কৌশল।

Operation Jackboot
১৪ / ২৪

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২০১৮-তে জম্মু-কাশ্মীরে পঞ্চায়েত ভোট বানচাল করতে প্রার্থীদের চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলেন নাইকু। আতঙ্ক ছড়াতে হিজবুলের এই কমান্ডার সেই বছরই শিউরে ওঠার মতো ভয়াবহ এক হত্যার ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন। নিহত জঙ্গির জন্য ‘গান স্যালুট’-এর চলের পিছনে ছিল নাইকুর নির্দেশ। ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১০ জন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির তালিকার শীর্ষে উঠে আসে হিজবুল কমান্ডার নাইকুর নাম।

Operation Jackboot
১৫ / ২৪

কাশ্মীরে জঙ্গিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রোধ করার জন্য তাদের নেতৃত্বের উপর আক্রমণ হানার পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ ও সেনা। এই কৌশল কার্যকরও প্রমাণিত হয়েছিল। ২০১৪ থেকে ২০১৬ বা তার আগে কাশ্মীরে সক্রিয় সমস্ত প্রধান জঙ্গি কমান্ডার হয় ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিকেশ হয়েছিলেন, নয়তো পাকিস্তানে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সেই সময় উপত্যকায় সক্রিয় গুটি কয়েক জঙ্গি কমান্ডারের মধ্যে এক জন ছিলেন নাইকু।

Operation Jackboot
১৬ / ২৪

‘এ++’ ক্যাটাগরির জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত নাইকু আট বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন। তাঁর মাথার জন্য দাম ধার্য করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা। অনেক দিন ধরেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। কিন্তু ধরা কিছুতেই পড়ছিলেন না।

Operation Jackboot
১৭ / ২৪

এর পর নাইকুকে নিকেশ করতে আসরে নামেন ডোভাল। ‘কাশ্মীরের ভূত’কে ধরতে একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত অভিযানের নির্দেশ দেন তিনি। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন জ্যাকবুট’।

Operation Jackboot
১৮ / ২৪

দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, কুলগাম, অনন্তনাগ এবং শোপিয়ানকে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা ‘মুক্ত এলাকা’ হিসাবে ঘোষণা করার পর এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ‘অপারেশন জ্যাকবুট’-এর উদ্দেশ্য ছিল উপত্যকার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি নাইকুকে খুঁজে বার করে নিকেশ করা।

Operation Jackboot
১৯ / ২৪

ডোভালের নির্দেশে ২০১৭ সালের মে মাসে কাশ্মীরের ১২ জন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কেবল নাইকুই বেঁচে ছিলেন। বাকি সকলকে একে একে খতম করে যৌথবাহিনী।

Operation Jackboot
২০ / ২৪

জানা যায়, এক আত্মীয়ের বাড়ির চিলেকোঠায় আস্তানা তৈরি করেছিলেন নাইকু। টিনের ছাদের নীচের ওই জায়গায় কাশ্মীরিরা সাধারণত গৃহস্থালির জিনিসপত্র মজুত করেন। সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন নাইকু। আশপাশের বাড়ি এবং রাস্তাঘাটে সহজে নজর রাখতে ওই ব্যবস্থা করেছিলেন জঙ্গি কমান্ডার।

Operation Jackboot
২১ / ২৪

২০২০ সালের ৫ মে গোয়েন্দা সূত্রে খবর মেলে দক্ষিণ কাশ্মীরের বেগপোরায় বাড়ির লোকদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন হিজবুল কমান্ডার। সে দিন রাতেই অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশনস গ্রুপ, সিআরপিএফ এবং ৫৫ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস।

Operation Jackboot
২২ / ২৪

শেষ রাতে অভিযান শুরু হয় পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরা, পম্পোর ও বেগপোরায়। তিন জায়গাতেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বাহিনী। জঙ্গিদের বিচ্ছিন্ন রাখতে ও তারা যাতে স্থানীয়দের প্ররোচনা দিতে বা ঢাল না করতে পারে, তার জন্য মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয় উপত্যকার ১০টি জেলায়।

Operation Jackboot
২৩ / ২৪

বেগপোরায় সংঘর্ষ শুরু হয় পরদিন বেলা ন’টা নাগাদ। সেখানে নাইকুর সঙ্গে আরও এক জঙ্গি নিহত হয়। পম্পোরের এক গ্রামেও মৃত্যু হয় দুই জঙ্গির। তিন অভিযানে নিকেশ করা হয় মোট ছ’জন জঙ্গিকে। শেষ হয় ‘অপারেশন জ্যাকবুট’। সফল অভিযানের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডোভালের মুখে।

Inside Operation Jackboot: NSA Ajit Doval’s Masterplan to Eliminate Riyaz Naikoo
২৪ / ২৪

ভারতের একাধিক সফল অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘অপারেশন জ্যাকবুট’। ডোভালের মস্তিষ্কপ্রসূত অভিযানের পর কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে সে সময়।

সব ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy