পরের মাস থেকে দেশের বাজারে গাড়ির দাম বাড়াতে চলেছে অধিকাংশ সংস্থা। তাদের দাবি, কাঁচামাল দামি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ব্যবসা চালানোর খরচ। গাড়ির দাম বাড়ানোর সময়ে তারা খেয়াল রাখছে, ক্রেতার উপরে তার প্রভাব যাতে যথাসম্ভব কম পড়ে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এপ্রিল থেকে আয়করের কাঠামো বদল হতে চলেছে। মধ্যবিত্তের হাতে বাড়তি কিছু টাকা যাতে থাকে, তার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। এই শ্রেণির অনেকেই জীবনে প্রথম বার গাড়ি কিনবেন। ফলে পরিকল্পনার আগে তাঁদের নতুন ভাবে হিসাব কষতে হবে। অনেকেরই বক্তব্য, বেশ কিছু দিন হল ছোট কম দামি গাড়ির বিক্রি কমছে। ফলে সেগুলির দাম বৃদ্ধি ওই বাজারকে আরও নিস্তেজ করতে পারে।
মারুতি সুজ়ুকি জানিয়েছে, তারা সব মডেলের গাড়ির দাম ৪% পর্যন্ত বাড়াবে। দাম ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে হুন্ডাই মোটর। বৈদ্যুতিক গাড়ি-সহ সমস্ত যাত্রিবাহী গাড়ির দাম বাড়াচ্ছে টাটা মোটরস। এসইউভি ও বাণিজ্যিক গাড়ির দাম ৩% পর্যন্ত বাড়াচ্ছে মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা। এপ্রিল থেকে দাম বাড়াচ্ছে কিয়া, হন্ডা কারস, রেনল্ট এবং বিএমডব্লিউ-ও।
ডেলয়েটের পার্টনার রজত মহাজনের বক্তব্য, ভারতে গাড়ি সংস্থাগুলি বছরে সাধারণত দু’বার পণ্যের দাম বাড়ায়। এক বার ক্যালেন্ডারবর্ষের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) শুরুতে, তার পরে অর্থবর্ষের (এপ্রিল-মার্চ) গোড়ায়। তবে কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এ ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় কাজ করে। গত ছ’মাসে ভারতীয় মুদ্রার নিরিখে ডলারের দাম প্রায় ৩% বেড়েছে। ফলে সংস্থাগুলির যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে গিয়েছে। কোনও কোনও সংস্থা সমস্ত যন্ত্রাংশই বিদেশ থেকে নিয়ে এসে জোড়ে এবং ভারতে গাড়ি বিক্রি করে। মুদ্রার অস্থিরতার প্রভাব তাদের উপরে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, ‘‘আশা করি অপেক্ষাকৃত কম দামের মডেলগুলির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংস্থা সতর্ক থাকবে।’’
মূল্যায়ন সংস্থা ইক্রার কর্পোরেট রেটিংস বিভাগের প্রেসিডেন্ট রোহন কানওয়ার গুপ্তের বক্তব্য, যাত্রিবাহী গাড়ির মজুত কমাতে সংস্থাগুলি এখন ছাড় দিচ্ছে। এই ছাড় কমবে। একই সঙ্গে গাড়ির দামও বাড়বে। বাজারের উপরে তার কী প্রভাব পড়ে, সে দিকে নজর রাখতে হবে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)