প্রতীকী ছবি।
সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। ওই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দু’জন। দুর্ঘটনা ঘটানো বাসটিকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে চালককে। বুধবার বেলা সওয়া ১২টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ভিআইপি রোডে, হলদিরাম মোড়ের কাছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন ওই চার জন একটি মোটরবাইক ও একটি স্কুটারে চেপে বিমানবন্দরের দিক থেকে উল্টোডাঙার দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে হলদিরাম মোড়ের কাছে পিছন দিক থেকে এসে ওই সরকারি বাসটি (ডব্লিউবি- ১১সি ৭৯৮০) সেই বাইক ও স্কুটারে ধাক্কা মারে। ঘটনার অভিঘাতে ছিটকে পড়েন ওই চার জন। সেই দৃশ্য দেখে পথচলতি লোকজন ও ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করতে ছুটে যান। তাঁদের তিন জনকে বারাসতের সরকারি হাসপাতালে এবং এক জনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বারাসতের হাসপাতালে দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি দু’জন দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম নয়নাদিত্য কুণ্ডু (৩১) এবং কিষান রায় (২৪)। প্রথম জন বরাহনগরের এবং দ্বিতীয় জন বাগুইআটির বাসিন্দা।
তদন্তে পুলিশ জেনেছে, নয়নাদিত্যই মোটরবাইকটি চালাচ্ছিলেন। তাঁর পিছনে বসে ছিলেন বরাহনগরের বাসিন্দা বিয়াস ঘোষ (৪৫)। স্কুটারটি চালাচ্ছিলেন বাগুইআটির বাসিন্দা পিন্টু সাহা। তাঁর পিছনে ছিলেন কিষান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সরকারি বাসটি শুধু তীব্র গতিতেই নয়, অত্যন্ত বেপরোয়া ভাবেও ছুটছিল। সেই গতির জেরেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক ও স্কুটারে ধাক্কা মারেন। পুলিশ সূত্রের খবর, এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বাসচালকের গাফিলতি কতটা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই এলাকায় ট্র্যাফিক পুলিশের নজরদারি এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও চালকদের একটি বড় অংশের হুঁশ ফিরছে না। বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল চলছেই। ভিআইপি রোডের ওই মোড়ে এর আগেও একাধিক বার দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা চান, সেখানে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ করুক ট্র্যাফিক পুলিশ।
অবশ্য পুলিশ সূত্রের খবর, বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো-সহ ট্র্যাফিক নিয়ম ভাঙার একাধিক ঘটনায় অতীতে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই ধারাই বজায় থাকবে।