কী ভাবে দাঁত মাজলে মুখে ব্রণ হবে না? ছবি: সংগৃহীত।
দাঁত মাজার ব্রাশের সঙ্গে যোগ রয়েছে ব্রণের। চোখ কচলে নিয়ে ভাবছেন, ঠিক পড়ছেন তো?
বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ হয় হরমোনের হেরফেরে। মুখ ভাল করে পরিষ্কার না করলেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। আবার যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে তাঁরাও একই রকম ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। সম্প্রতি তুরস্কের এক চর্মরোগ চিকিৎসক মেহ্স এবং নেটপ্রভাবী সমাজমাধ্যমে সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “ঘুম থেকে উঠে আগে গোটা মুখ ধুয়ে ফেলেন অনেকে। তার পর দাঁত মাজেন। এই অভ্যাসেই মুখে ব্রণের বাড়বাড়ন্ত দেখা দিতে পারে।”
দাঁত মাজার সঙ্গে মুখময় ব্রণ ভরে যাওয়ার সম্পর্কের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক। ব্রাশ করার সময়ে মুখ থেকে ফেনা ঠোঁট, থুতনি কিংবা মুখের কোনও কোনও অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। ওই ফেনার মাধ্যমে মুখগহ্বর থেকে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া সহজেই ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, মেহ্স বলেন, “মাজনের মধ্যে এক ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্কও করে তুলতে পারে। তাই দাঁত মাজার পরে ভাল করে পুরো মুখ ধুয়ে নেওয়া উচিত।” দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আরও এক চর্মরোগ চিকিৎসক গীতিকা মিত্তল গুপ্ত এ বিষয়ে সহমত। তাঁর মতে, “স্নান করার পরে দাঁত মাজলেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।”
গবেষণা কি এই যুক্তির পক্ষে?
এই বিষয়ে খুব বেশি গবেষণা নেই। তবে ১৯৮৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ টক্সিকোলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মাজনের মধ্যে থাকা ‘সোডিয়াম লওরেল সালফেট’ বা ‘এসএলএস’ থেকে ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, ‘এসএলএস’ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ত্বকের প্রসাধনীতে এই উপাদানটি থাকলে, সেটি বর্জন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনি শ্যাম্পুতেও ‘এসএলএস’-এর অস্তিত্ব মেলে। তবে দাঁত মাজার পরে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিলে কিংবা স্নান করলে এই ধরনের সমস্যা থাকে না।