(বাঁ দিকে) অঞ্জন দত্ত। নীল দত্ত (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
সঙ্গীতের পাশাপাশি সিনেমাতেও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছেন। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে কাজের ব্যস্ততা। প্রায় ৬ বছর পর আরও একবার একসঙ্গে মঞ্চে ফিরছেন অঞ্জন দত্ত এবং নীল দত্ত। ‘আমি আর গোডো’র নতুন পর্বে কী কী চমক থাকছে? জানালেন পিতা-পুত্র জুটি।
পিতা-পুত্র জুটিকে নিয়ে এখনও স্মৃতিমেদুর অঞ্জন। কারণ, ১৯৯৩ সাল থেকে মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বাজাতেন নীল। প্রথম অনুষ্ঠান ছিল ‘জ্ঞান মঞ্চ’-এ। অঞ্জন বলছিলেন, ‘‘তার পর থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় যেতে শুরু করলাম। ছোট আকারে অনুষ্ঠান প্রায় এক বছর চলেছিল। তখনও আমার প্রথম অ্যালবাম বেরোয়নি।’’ পরের বছর ‘শুনতে কি চাও?’ অ্যালবাম প্রকাশের পর বাকিটা প্রায় সকলেরই জানা। অঞ্জনের কথায়, ‘‘শো বাড়তে শুরু করল। নানা গানের অনুরোধ আসত। এ দিকে বহু গান আমরা সময়ের অভাবে গাইতেও পারতাম না।’’
বছর চারেক পর আরও শিল্পী নিয়ে ‘ব্যান্ড’ও তৈরি করে ফেললেন অঞ্জন। সময়ের সঙ্গে তা কলেবরে বাড়ল। পরিচালক অঞ্জনের ব্যস্ততা বাড়ল। বলছিলেন, ‘‘এ দিকে ২০১২ সালের পর থেকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ইন্টারনেট— নানা কারণে শোয়ের সংখ্যাও কমতে শুরু করল। তখন থেকেই আমরা ভাবছিলাম, অনুরাগীদের জন্য কিছু করা উচিত।’’ এই ভাবনা থেকেই শুরু হয় ‘আমি আর গোডো’।
২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় অঞ্জন এবং নীলের এখনও পর্যন্ত শেষ অ্যালবাম ‘আমি আর গোডো’। এই শিরোনামেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। বাহুল্য নেই, কেবল দু’টি অ্যাকুস্টিক গিটার এবং গান। যেখানে অঞ্জন এবং নীল মূলত তাঁদের অপেক্ষাকৃত কম শ্রুত এবং অ্যালবামের বাইরের নতুন গান শ্রোতাদের সামনে পরিবেশেন করেন। অঞ্জনের কথায়, ‘‘আমাদের শুরুর দিনে ফিরে যাওয়ার একটা প্রয়াস। চুপচাপ বসে শ্রোতারা কয়েক ঘণ্টা গান শুনবেন, এটাই ছিল ভাবনা। যাঁরা ‘মেরি অ্যান’, ‘বেলা বোস’ বা ‘রঞ্জনা’ শুনেই বাড়ি ফিরতে প্রস্তুত নন, তাঁদের কথা ভেবেই এই অনুষ্ঠান।’’
এ বারেও ‘আমি আর গোডো’য় পুরনো গানের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন গান রেখেছেন অঞ্জন এবং নীল। আসন্ন অুষ্ঠান নিয়ে নিয়ে উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল নীলের কণ্ঠেও। অঞ্জন যখন নীলকে নিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স অনেকটাই কম। তখন কি তিনি তার অর্থ বুঝতে পারতেন? না কি এখন গানগুলো তাঁর কাছে নতুন ভাবে হাজির হয়? নীল বললেন, ‘‘আমি তখন ক্লাস এইটের ছাত্র। সবই বুঝতে পারতাম। গানগুলোর প্রেক্ষাপট তখনও আমার কাছে যা, এখনও তার কোনও পরিবর্তন হয়নি।’’
অঞ্জনও মনে করিয়ে দিতে চাইলেন যে, গানের অর্থ শ্রোতার মনে রয়ে যায়। কিন্তু তাঁর গানের অনেক নাম বা ঠিকানারই বর্তমানে আর অস্তিত্ব নেই। অঞ্জন বললেন, ‘‘টেলিফোন বুথই তো এখন আর নেই। কিন্তু তার পরেও ‘বেলা বোস’কে নিয়ে মাতামাতি। ডাক্তার লেনও কি আছে? এই হারিয়ে যাওয়া বা বদলে যাওয়া কলকাতাই আমার গানে ফিরে ফিরে আসে। সেটা আমার সঙ্গেই শ্রোতাদেরও ভাল লাগে।’’ আগামী ৩০ মার্চ জ্ঞান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘আমি আর গোডো’।