প্রায় শেষ লগ্নে এসে পৌঁছেছে পুজো। দেবী দুর্গার বিদায় বেলায় মন ভারাক্রান্ত। বিজয়া দশমী এসে উপস্থিত। দশমী মানেই দেবী বরণ, সিঁদুর খেলা, বিসর্জন। আর এই সমস্ত প্রথা, রীতির জন্য সধবা মহিলারা নিজেদের লাল পাড় সাদা শাড়িতে সাজান৷ সঙ্গে কেউ আবার আলতাও পরেন।
বিবাহিত মহিলা বা এয়ো স্ত্রীদের মধ্যে আলতা পরার চল রয়েছে বিজয়া দশমীতে। কিন্তু আলতার মাহাত্ম্য কী? লাল রং কিসের প্রতীক জানেন?
সাজগোজের অঙ্গ হিসেবে আলতা যুগ যুগ ধরে মেয়েরা ব্যবহার করে আসছে। নৃত্য শিল্প কলার সঙ্গেও আলতা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। পুজো পার্বন বা যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে আলতা ব্যবহার করে মেয়েরা।
শুভ বিবাহের চিহ্ন হিসেবে বাঙালিদের মধ্যে আলতা পরার চল রয়েছে। একদিকে যেমন পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়, তেমনি আলতার গুরুত্ব অপরিসীম।
কথিত আছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাধারানির পায়ে আলতা লাগিয়ে দিতেন। আবার অপর দিকে লাল রং কে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিয়ের সময় মেয়েরা যখন পায় আলতা লাগায়, তখন তাকে তার এবং তার পরিবারের সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
গ যুগ ধরে নৃত্য শিল্পকলার সঙ্গেও আলতা জড়িত। আলতার গুণ যে কোনও শিল্পকর্মের নান্দনিকতাকে বৃদ্ধি করে। তাই যুগ যুগ ধরে আলতা মেয়ে এবং বিবাহিত মহিলাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপুজায় মা দুর্গার কাছে আলতা এবং সিঁদুর নিবেদন করা হয়। পরে সেই আলতাকে এয়ো স্ত্রীরা আশীর্বাদ হিসেবে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান।
বিজয় দশমীতে যেমন মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর সময় তাঁর সিঁথি রাঙিয়ে দেওয়া হয় সিঁদুরে, তেমনই আলতা নিবেদন করা হয় পায়ে। প্রত্যেক স্ত্রী নিজেদের সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় করার উদ্দেশ্যে বিজয়া দশমীতে আলতা পরেন।