রাজা তৃতীয় চার্লসের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে গত এক বছর ধরে। ছবি : সংগৃহীত।
ক্যানসারের দংশন কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না। তিনি ব্রিটেনের রাজা হলেও নয়। ক্যানসারে আক্রান্ত রাজা তৃতীয় চার্লসের গত এক বছর ধরেই চিকিৎসা চলছে। সেই চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন বলেও জানিয়েছিল বাকিংহাম প্যালেস। কিন্তু বৃহস্পতিবার আচমকাই ক্যানসারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন চার্লস। অসুস্থতা এতটাই যে, তাঁর সমস্ত কাজ মুলতবি রেখে তাঁকে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে!
ক্যানসারের যে সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি চালু রয়েছে, তার কোনওটিই তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নয়। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন, এমনকি, ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা ইমিউনোথেরাপিরও নানা রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারও জ্বর হয়, কারও ত্বকে নানা রকম প্রভাব পড়ে, পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ অথবা এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ডে প্রদাহের সমস্যাও হতে পারে। এর কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্রা ছাড়ালে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতেই পারে।
ব্রিটেনের রাজপরিবারের অবশ্য নিজস্ব চিকিৎসক রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, পদমর্যাদা অনুযায়ী পারিবারিক সদস্যদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত চিকিৎসকও পান। রাজা রাজপরিবারের শীর্ষ পদাধিকারী। তাঁর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার জন্য এক জন নন, একাধিক চিকিৎসকের থাকার কথা। সাধারণ সমস্যা হলে সামাল দেওয়ার কথাও তাঁদেরই। যদিও রাজার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাঁকে চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ভর্তি করাতে হয়েছে হাসপাতালে। বন্ধ রাখতে হয়েছে আগামী বেশ কিছু দিনের কাজও।
ব্রিটেনের রাজা ৭০ পেরিয়ে সিংহাসনে বসেছেন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। তার দু’বছর পেরোতে না পেরোতেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। গত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজার ক্যানসার হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এনেছিল বাকিংহামের রাজপ্রাসাদ। তার পর থেকে তাঁর চিকিৎসা চলেছে প্রায় এক বছর ধরে। এখনও তিনি চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে হঠাৎ কী এমন হল যে, রাজাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হল, তা অবশ্য খোলসা করে বলেনি বাকিংহাম। যেমন তারা এ-ও জানায়নি, রাজার ক্যানসার আসলে হয়েছে কোথায়? শুক্রবার ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদের তরফে জানানো হয়েছে, ‘‘শুক্রবার রাজাকে হাসপাতাল থেকে ফেরানো হয়েছে। আপাতত তিনি বিশ্রামে থাকবেন। সুস্থ হলে আবার স্বাভাবিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস।’’ একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই অসুস্থতার জন্য রাজার চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনও বদল আসছে না। বরং রাজার চিকিৎসা সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে বাকিংহাম।
কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসায় কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
চিকিৎসকেরা বলছেন, ক্যানসারের অনেক রকম চিকিৎসা আছে। তার মধ্যে অন্যতম কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি। এর প্রত্যেকটিরই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ব্রিটেনের ক্যানসার রিসার্চ সংস্থা জানাচ্ছে, সবার শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাব সমান নয়। বিষয়টি রোগী বিশেষে বদলে যায়। একই সঙ্গে কাকে কতটা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে তার উপরও নির্ভর করে। কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরে সাময়িক প্রভাব ফেলে। তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুরুতরও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীর যিনি চিকিৎসা করছেন, তিনিই ঠিক করবেন, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত।
কেমোথেরাপি
ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস বলছে, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা যায়। তবে সবার যে সব রকম সমস্যা হবে, এমন কোনও কথা নেই।
১। ক্লান্তিবোধ
২। গা-গুলোনো এবং বমি ভাব
৩। মুখে এবং গলায় ঘা
৪। রোগপ্রতিরোধ শক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
৫। অ্যানিমিয়া, কাজ করার শক্তি চলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক ধড়ফড়া করা
৬। কালসিটে পড়া
৭। চুল ঝরে যাওয়া
৮। হাত-পায়ে অসাড় ভাব অথবা অস্বস্তিকর শিরশিরে অনুভূতি
৯। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মনঃসংযোগের সমস্যা
রেডিয়োথেরাপি
রেডিয়েশনের মাধ্যমে ক্যানসারের কোষগুলিকে নষ্ট করা হয় এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি হল—
১। ত্বকে জ্বালা ভাব, ত্বকের রং বদলে যাওয়া
২। ক্লান্তিবোধ
৩। চুল পড়া
৪। গা বমি ভাব
৫। খিদে না পাওয়া
৬। মুখে ঘা
৭। ডায়েরিয়া
ইমিউনোথেরাপি
এই প্রক্রিয়ায় রোগপ্রতিরোধ শক্তিকেই এতটা জোরালো করা হয় যে, তার সাহায্যে শরীর নিজেই ক্যানসার কোষগুলিকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে। তবে এরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।
১। সূচ ফোটানোর জায়গায় ব্যথা, ফোলাভাব, লালচে ভাব
২। জ্বর, বমি, শ্রান্তিবোধ, পেশির ব্যথা
৩। বুক ধড়ফড় করা
৪। সাইনাসের সমস্যা
৫। ডায়েরিয়া
৬। প্রত্যঙ্গে প্রদাহ