সি-২৯৫ বিমান। —ফাইল চিত্র।
লাদাখ, সিকিম কিংবা অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-র দুর্গম সেনাঘাঁটিতে অস্ত্র এবং রসদ পৌঁছে দেওয়া পারদর্শিতা প্রমাণিত করেছে ইতিমধ্যেই। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য তাই আরও ১০টি মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক পরিবহণ বিমান সি-২৯৫ বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
স্পেনের বিমান নির্মাতা সংস্থা ‘এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গুজরাতের বরোদায় বিমান নির্মাণ কারখানায় সি-২৯৫ বানাবে ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড’। ভারতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে তৈরি হবে এই বিমান। গত বছরের অক্টোবরে স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে ওই কারখানার উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
২০২১ সালে স্পেনের সংস্থাটিকে ৫৭টি সি-২৯৫-এর বরাত দেওয়া হয়েছিল। হয়েছিল, ২২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্পেনের নির্মাতা সংস্থার থেকে ১৬টি বিমান ‘উড়ানের উপযুক্ত অবস্থায়’ ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আমদানি করা হবে। বাকি ৪০টি ওই সংস্থা এবং টাটা গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ভারতেই বানানো হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০২৩ সাল থেকে কয়েকটি বিমান ধাপে ধাপে ভারতে এসেছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫টি বিমানের বরাত দেওয়া হয়েছিল এয়ারবাস-টাটাকে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফায় আরও ১০টি বিমানের জন্য আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বায়ুসেনা সূত্রের খবর, চিনা ফৌজের আগ্রাসনের আশঙ্কা দেখা দিলে সি-২৯৫ অগ্রবর্তী সেনাঘাঁটিগুলিতে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারবে বাড়তি বাহিনী। সেই সঙ্গে সুবিধা হবে আহত বা অসুস্থ সেনাদের ফিরিয়ে আনা প্রয়োজনে এই বিমান শত্রুপক্ষের উপর নজরদারির কাজেও ব্যবহার করা যায়। একসঙ্গে ৭১ জন সেনা বা প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম-সহ ৫০ জন প্যারাট্রুপার কমান্ডোকে নিয়ে পাড়ি দিতে পারে সি-২৯৫।