প্রতীকী ছবি।
রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুনু মণ্ডল। তিনি রায়গঞ্জের মিরুয়াল এলাকার একটি ভোজ্য তেলের কারখানায় কাজ করেন। শুক্রবার দুপুরে রায়গঞ্জ থানায় গিয়ে তিনি পুলিশের কাছে ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি সহ একটি জেনারেল ডায়রি (জিডি) জমা দেন। এরপরেই ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘স্যার, প্রশাসনের কাছে জেনারেল ডায়রির প্রতিলিপি জমা দেওয়ার পর কত দিন পর নতুন ভোটারকার্ড পাব?’’
ওই পুলিশকর্মীর জবাব, সেটা পুলিশের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনের কর্তারা বলতে পারবেন। তাঁর পরামর্শ, আপনি দ্রুত প্রশাসনের কাছে জিডি-র প্রতিলিপি সহ নতুন ভোটার কার্ড চেয়ে আবেদন করুন।
সুনুর কথায়, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ির আলমারিতে রাখা বিভিন্ন নথি ঘেঁটেও আমার ভোটার কার্ড খুঁজে পাইনি। নতুন ভোটারকার্ড সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার কর্ণজোড়ায় উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাচনী দফতরে গিয়েছিলাম। ওই দফতরের আধিকারিকেরা আমাকে পুলিশের কাছে ভোটারকার্ড হারিয়ে যাওয়ার জিডি-র প্রতিলিপি সহ নতুন ভোটারকার্ড চেয়ে আবেদন করতে বলেছেন। সেই মতো এদিন পুলিশের কাছে জিডি করলাম। নতুন নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ায় এখন কবে নতুন ভোটারকার্ড পাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’’
এমন অবস্থা শুধু সুনুর একার নয়। কারও ভোটার কার্ডের হদিশ নেই, কেউ আবার বহু খুঁজেও আধার কার্ড পাচ্ছেন না। অনেকের আবার রেশন কার্ড হারিয়ে গিয়েছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহে রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০ জনেরও বেশি বাসিন্দা রায়গঞ্জ থানায় এ সব অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত তিন সপ্তাহ ধরে রায়গঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও রেশন কার্ড হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগে জিডি করছেন। কিন্তু এত দিন কেন ভোটার কার্ড, আধার কার্ডের খোঁজ করেননি তাঁরা? অনেকেরই উত্তর, এত দিন এই কার্ডগুলো বেরোতে শুধু ভোটের সময়। এখন এনআরসি, সিএএ আতঙ্ক চেপে বসছে যে!
জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মণ বলেন, ‘‘অনেকের কাছেই তাঁদের হারিয়ে যাওয়া ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের প্রতিলিপিও নেই। ফলে নতুন করে সেগুলি তৈরি করতে প্রশাসনের সমস্যা হচ্ছে।’’
এ দিন রায়গঞ্জ থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে রায়গঞ্জের মহীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্মণীয়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর আব্দুল মালিক ও তাঁর স্ত্রী রমেলা বিবি জানান, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড খুঁজে পাচ্ছেন না। নথি হারিয়ে যাওয়ায় নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা।