নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফাইল চিত্র
‘অ্যাসেট মনিটাইজ়েশন’ প্রকল্পের আওতায় রেল, জাতীয় সড়ক, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, তেল-গ্যাস, বন্দরের মতো পরিকাঠামোকে ব্যবসায়িক ভাবে ব্যবহারের জন্য বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এ বার এই প্রসঙ্গে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, বিক্রি করে দেওয়ার বদলে বেসরকারি হাতে দেওয়ার ফলে অব্যবহৃত সরকারি সম্পত্তিগুলির ব্যবহার যেমন হবে, তেমনই আয় বাড়বে সরকারের। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র যাই বলুক, এই পদক্ষেপ বেসরকারিকরণের প্রথম ধাপ।
বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটা মোদীর (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) নয়, দেশের সম্পদ। মোদী দেশ এবং মানুষের সম্পদ এ ভাবে বিক্রি করতে পারেন না। এটা বিজেপি দলের বিষয় নয়। এটা দেশের স্বার্থ। আমরা স্তম্ভিত। এটা দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত। শুধু আমি নয়, আমাদের গোটা দেশ আমার সঙ্গে এর বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাতে যোগ দিয়েছে।”
গত বিধানসভা ভোটের পরে উত্তরবঙ্গকে নিয়ে পৃথক রাজ্য তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা। এ দিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “যারা দেশ বিক্রি করতে চায়, তারা ভাবছে বাংলাকেও বিক্রি করে দেবে। অত সহজ নয়। খেলা হবে। অত সহজে আমরা খেলায় হারতে রাজি নই। বিজেপির নেতাদের মতে দেশ চলবে না, বাংলা ভাগও হবে না। সে রামও নেই, সে অযোধ্যাও নেই। রাম আর অযোধ্যাকে জানতে গেলে আগে ভাল করে রামায়ণটা পড়তে হবে।”
গত ভোটের আগে থেকেই বেসরকারিকরণ প্রসঙ্গে কেন্দ্রবিরোধী সুর ক্রমশ চড়িয়েছে শাসক দল তৃণমূল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই ধারণা, জাতীয় স্তরে এই বিষয়ে কেন্দ্র বিরোধিতার সুর যে তাঁর দল চড়িয়েই রাখবে, এ দিন সেই ইঙ্গিতই দিলেন মমতা।