বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে অনবদ্য ইনিংস খেলেন গুরবাজ়। ছবি: আইপিএল।
গত ডিসেম্বরের নিলামে আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রহমানুল্লা গুরবাজ়কে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সে সময় অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। সেই গুরবাজ়ই এখন নাইট শিবিরে তারকা। ইডেনে বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে আফগান ক্রিকেটারের ইনিংস ভরসা দিচ্ছে দু’বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের।
দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে খুশি গুরবাজ়। সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন দলকে। আফগান ক্রিকেটার বলেছেন, ‘‘শুরুতে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। এত দর্শকের সামনে খেলার তেমন সুযোগ হয়নি আগে। কোচ এবং দলের সকলে আমাকে সাহস দিয়েছিল। সবাই পাশে থাকায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হল।’’
গত মরসুমে কেকেআরে ছিলেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ নবি। একটা ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি আফগান অলরাউন্ডার। গুরবাজ়কে অবশ্য এ বার প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলাচ্ছেন কলকাতার কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত। তিনিই এখন দলের প্রথম উইকেটরক্ষক। উপরের দিকে আগ্রাসী ব্যাটিংও করতে পারেন।
প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরবাজ়ের মূল লড়াই ছিল আর এক বিদেশি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার এখনও নাইট শিবিরে যোগ দিতে পারেননি জাতীয় দলের সূচির জন্য। তাই গুরবাজ়ের সুযোগ পাওয়া সহজ হয়ে যায় অনেক। এই সুযোগ হেলায় হারাতে চান না তিনি। চান যে না তা প্রমাণ করেছেন বৃহস্পতিবারের ইডেনে।
গুরবাজ়ের ইনিংসের প্রশংসা করেছেন নাইট কোচ পণ্ডিত। অধিনায়ক নীতীশ রানা-সহ অন্য সতীর্থরাও তাঁর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ। দলের সকলের সমর্থন গুরবাজ়ের জড়তা কাটিয়ে দিয়েছে। তিনি এখন কলকাতার হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান। গুজরাত টাইটান্সের রশিদ খানের মতো আইপিএলের মঞ্চে তুলে ধরতে চান আফগান ক্রিকেটের সৌন্দর্য। আফগানিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে এক দিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ম্যাচে শতরান করার কৃতিত্ব রয়েছে ২১ বছরের ব্যাটারের। তিনি এখন আইপিএলের ইতিহাসেও প্রথম আফগান ব্যাটার, যিনি অর্ধশতরান করলেন।
গুরবাজ়ের সব ভাবনা এখন কলকাতা কেন্দ্রিক। কলকাতায় এসে রসগোল্লা খেয়েছেন। বাংলার জনপ্রিয় মিষ্টিও ভাল লেগেছে তাঁর। সব মিলিয়ে কলকাতায় মজেছেন গুরবাজ়। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনিই এখন ‘কাবুলিওয়ালা’।