ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নানা মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। তাঁদের সঙ্গে গল্প করে, প্রেমের ভান করে ঘনিষ্ঠ হতেন। তার পর হাতিয়ে নিতেন লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এমনই এক প্রতারক।
অভিযুক্তের নাম প্যাট্রিক গিবলিন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫৮ বছর। প্রায় দু’দশক ধরে মেয়েদের ঠকিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের জালে এর আগে একাধিক বার ধরা পড়েছিলেন প্যাট্রিক। কখনও ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন, কখনও জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন, কখনও আবার জেলের ভিতরে বসেই সুকৌশলে চালিয়ে গিয়েছেন প্রতারণা।
ঠিক কী করতেন প্যাট্রিক? ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে তাঁদের ফোন নম্বর জোগাড় করতেন। তার পর তাঁদের সঙ্গে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব পাতাতেন।
মহিলাদের কাছে নিজের ‘ভুয়ো’ পরিচয় দিতেন তিনি। বাড়ি-গাড়ি, বিপুল পারিবারিক সম্পত্তির গল্প ফাঁদতেন। এমনকি প্রয়োজনে মেয়েদের রূপ-গুণের তারিফও করতেন গুছিয়ে।
বেছে বেছে এমন মহিলাদের নিজের শিকার বানিয়েছেন প্যাট্রিক, যাঁরা মনমরা। মনের দুঃখে জীবনের প্রতি যাঁরা ভরসা হারাতে বসেছেন, এমন মেয়েদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন তিনি। তার পর কথার জাদুতে তাঁদের মন ভোলাতেন অনায়াসে।
বন্ধুত্ব কিছু দূর এগোলেই এই সমস্ত মেয়ের কাছে টাকা চাইতেন প্যাট্রিক। নানা রকম অজুহাতে মোটা টাকা ধার নিতেন। কখনও বলতেন, তাঁর গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছে, কখনও জুয়া খেলে বিরাট ক্ষতির অজুহাত দিতেন।
এক বার টাকা পেয়ে গেলে আর প্যাট্রিকের পাত্তা পেতেন না তাঁর সঙ্গিনীরা। টাকাও আর কখনও ফিরত না। প্রতারণার অভিযোগে ২ বার জেল খেটেছেন তিনি। দু’বারই পালিয়ে গিয়েছেন জেল থেকে।
সম্প্রতি এই কুখ্যাত প্রতারককে জেল থেকে পালানোর অপরাধে বড়সড় সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে ৬৬ মাস কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে।
আমেরিকার পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ১০০ জন মহিলাকে প্রতারণা করেছেন প্যাট্রিক। প্রায় দু’দশক ধরে হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত আড়াই লক্ষ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬ লক্ষ ডলার।
২০০৫ সালে প্যাট্রিকের কীর্তি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ‘প্যাট’ নামে তখন তিনি মেয়েদের মাঝে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। তার বাইরেও সমাজমাধ্যমে একাধিক নামে তাঁর একাধিক অ্যাকাউন্ট ছিল।
বিধবা, প্রতিবন্ধী, একা মা, এমনকি বিশেষভাবে সক্ষমরাও প্যাট্রিকের শিকার হয়েছেন। তিনি সকলকে বলতেন, মহিলাদের অন্তরের সৌন্দর্য তাঁর কাছে গুরুত্ব পায়। তাঁর মিষ্টি কথায় সহজেই মজেছেন মহিলারা।
পুলিশ জানিয়েছে, কোনও মেয়ে প্যাট্রিকের ফাঁদে পা না দিয়ে তাঁকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁর গোপন এবং দুর্বল দিকটিকে আঘাত করতেন প্রতারক। এমনকি ব্ল্যাকমেলের নজিরও বিরল ছিল না।
১০০ মহিলার কথা বলা হলেও পুলিশের অনুমান, প্যাট্রিকের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন আরও অনেকে। লজ্জায় অনেকেই হয়তো সত্যিটা স্বীকার করতে পারেননি।
২০০৫ সালে ধরা পড়ার পর ১১৯ মাসের কারাবাসের সাজা হয় প্যাট্রিকের। জেল থেকে তিনি পালিয়ে যান। তার পর ২০০৭ সালে তাঁকে আবার ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাতেও থামেনি প্যাট্রিকের দৌরাত্ম্য।
২০১২ সালে প্যাট্রিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে অ্যাটলান্টিক শহরে চাকরি খুঁজতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে না ফিরে তিনি প্রতারণার কাজে আবার মনোনিবেশ করেন।
২০১৭ সালে ৫ বছরের জন্য হাজতে পাঠানো হয়েছিল প্যাট্রিককে। অভিযোগ, জেলে বসেই এই সময় তিনি মেয়েদের ঠকাতেন। তাঁকে যে সাজা দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি একাংশের।