প্রতীকী ছবি
নিজের সন্তান দুধে ভাতে থাকুক, সে তো সবাই চায়। কিন্তু চাইলেই তো পারা যায় না। বিশেষত আজকের দুনিয়ায় যেখানে স্কুলের খরচ মেটাতেই মানুষ গলদঘর্ম।ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারির কথা ভুলে যান, কলা বিভাগে পড়ানোর খরচও কিন্তু অনেক। অবশ্যই যদি ভাল কোথাও পড়াতে চান।
সমস্যা হল- আপনার সন্তান যখন ছোট, তখন আপনার জানার উপায় নেই ও কী নিয়ে পড়তে চাইবে। কিন্তু ওর ইচ্ছা ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায় ধরেই এগোতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লে এবং তা যদি বেসরকারি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়, তা হলে বছরে নিদেনপক্ষে আজকের হিসাবে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা লাগবে। মাস গেলে ৬৬ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
এ বার এই হিসাব আজকে দাঁড়িয়ে আজকের দামে। ১৯৬০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আমাদের দেশে বছরে গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৭.৫ শতাংশ।
এ বার ধরা যাক আপনার সন্তানের বয়স এখন ৫ বছর। ১৮ বছর বয়সে সে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ঢুকবে এবং আপনার আসল খরচ শুরু হবে। তা হলে ১৩ বছর বাদে খরচের হিসাবটা কী দাঁড়াবে আজকের অঙ্কে? অঙ্কটা সোজা। মুদ্রাস্ফীতির হারকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হিসাবে ভাবুন। এ বার দেখুন আজকের ১ লক্ষ টাকা ১৩ বছর বাদে ৭.৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে গিয়ে দাঁড়াবে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকায়!অর্থাৎ আজ যা ১ লক্ষ টাকায় কিনতে পারছেন, তা ১৩ বছর বাদে কিনতে লাগবে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা!আর আজকের ৮ লক্ষ টাকা? ১৩ বছর বাদে গিয়ে দাঁড়াবে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো! যদি মুদ্রাস্ফীতির হার গড়ে ৭.৫ শতাংশ হয়।
তা হলে? আজকাল অনেকেই বলছেন সন্তান হওয়ার আগেই তার ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় শুরু করতে। যাতে সন্তানকে দুধে ভাতে রাখতে ঘটি বাটি বিক্রি করতে না হয়। ভাবছেন কী করবেন?
এখানেই আসছে ভবিষ্যতের পাথেয়র ব্যবস্থা করার কথা। আপনাকে শুধু এক রাস্তায় হাঁটলে হবে না। মাথায় রাখুন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথাও। সঞ্চয় পরিকল্পনা এমন ভাবে করতে হবে, যাতে লগ্নির উপর আপনার রিটার্ন মুদ্রাস্ফীতির হারের উপর থাকে। এতে সন্তানের শিক্ষা খাতে জমানোর চাপও কমবে।
মানে এই ভাবে ভাবুন। আজ থেকে যদি মাসে এক হাজার টাকা করে জমান ৮ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে, তা হলে ১৩ বছর বাদে আপনি হাতে পাবেন তিন লক্ষ টাকার মতো।
এবার ভাবতে শুরু করুন। আমাদের কখন কী হয়, কেউ জানে না। তাই আগেই একটা জীবন বিমা করুন সন্তানের কথা ভেবে। টার্ম ইনস্যুরেন্স-এর পথে হাঁটুন। তাতেই লাভ।এ বার আপনার ভাবা উচিত যে সময়ের সঙ্গে আপনার আয়ও বাড়বে। তাই তাল মিলিয়ে আপনি আপনার বর্ধিত আয়ের থেকে সন্তানের শিক্ষা খাতে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়িয়ে যেতে পারবেন। এক দিকে চক্রবৃদ্ধির লাভ, অন্য দিকে প্রতি বছর একটু একটু করে আপনার সঞ্চয় খাতে লগ্নি বাড়ানোর সুযোগ। এ দুটো মিলিয়ে কিন্তু এই দায় মেটানো ততটা জটিল নয়।
আরও একটা কথা মাথায় রাখবেন। সন্তান বড় হলে শিক্ষা শেষে তার নিজের আয়ও হবে। তাই তার শিক্ষার সব খরচ নিজের ঘাড়ে না রেখে কিছুটা সে নিজেও বহন করতে পারবে, এই আস্থাটা থাকাও জরুরি। স্বাবলম্বী হওয়ার পাঠও শুরু করুন গোড়া থেকেই। এটাও জরুরি।
আপনার সামনে এই খরচ সামলানোর সঞ্চয়ের যে পথ রয়েছে তা হল:
১) জীবন বিমা (জীবনের ঝুঁকি সামলাতে। এটা করতেই হবে সন্তানের স্বার্থে)
২) রেকারিং ডিপোজিট এবং ফিক্সড ডিপোজিট
৩) শেয়ার
৪) ঋণপত্র
৫) সন্তান যদি মেয়ে হয়, তা হলে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
এই বার প্রশ্ন হল কোথায় কত লগ্নি করব এবং কী ভাবে? দেখুন সঞ্চয়ের বাজারে এখন নানা লগ্নির উপায় রয়েছে। তাদের ঝুঁকিও হরেক রকমের এবং রিটার্নও আলাদা রকম। আগের মতো আজকের সঞ্চয়ের দুনিয়া অত সরল নয়। তাই এ ব্যাপারে সঞ্চয় উপদেষ্টার কাছে যান। আপনার আয়, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও দায় হিসাব করে উনিই বাতলে দেবেন পথটা। সঞ্চয়ের হিসাবে ১৩ বছর কম সময় নয়। আপনার আয় যাই হোক না কেন, সময়ে ভাবলে আপনার সন্তানকে দুধে ভাতে রাখার ব্যবস্থা করতে আপনার ঘটি বাটি বেচার প্রয়োজন পড়বে না। তাই শুরু করুন এখনই।
বিশেষজ্ঞদের কাছে সমাধান খুঁজতে সঞ্চয় নিয়ে আমাদের প্রশ্ন পাঠান — takatalk2023@abpdigital.in এই ঠিকানায় বা হোয়াটস অ্যাপ করুন এই নম্বরে — ৮৫৮৩৮৫৮৫৫২আপনার আয়, খরচ এবং সঞ্চয় জানাতে ভুলবেন না। পরিচয় গোপন রাখতে চাইলে অবশ্যই জানান।