অতিরিক্ত প্রোটিন চুলের জন্য ভাল নয়? ছবি: সংগৃহীত।
প্রোটিন মাত্রেই ভাল। তা সে শরীরের জন্যই হোক বা চুলের— এমন ধারণা রয়েছে অনেকেরই। শারীরবৃত্তীয় কাজে তো বটেই, পেশি গঠন এবং মজবুত রাখতেও যথেষ্ট সাহায্য করে প্রোটিন। সেই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের দেখাশোনাও করে। ত্বক, চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রোটিন যদি না শরীরের না পৌঁছোয়, সে ক্ষেত্রে আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট খেতে হয়। একই সঙ্গে যদি চুলে প্রোটিন-সমৃদ্ধ ট্রিটমেন্ট করা যায়, তা হলে কি বাড়তি সুবিধা মিলবে? চিকিৎসক বা কেশচর্চা শিল্পীরা কিন্তু উল্টো কথাই বলছেন।
ভীষণ রুক্ষ আর নির্জীব চুল কিন্তু প্রোটিনের প্রলেপে রেশমের মতো হয়ে ওঠে। তাই খাওয়ার পাশাপাশি সালোঁয় গিয়ে মাস চারেক অন্তর কেরাটিন বা স্মুদনিংয়ের মতো ট্রিটমেন্ট করিয়ে আসেন অনেকে। রাসায়নিক-নির্ভর এই ধরনের ট্রিটমেন্টগুলির মূল ভিত্তিই হল প্রোটিন। আবার যাঁরা এই ধরনের ব্যয়বহুল ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন না, তাঁরা প্রোটিন-যুক্ত শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক কিংবা সিরামও ব্যবহার করেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে কিংবা তেমন প্রসাধনী ব্যবহার করলে চুলের ভাল তো হয়ই না, উল্টে কেশরাশি আরও রুক্ষ এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন?
প্রোটিন আসলে চুলের উপর আলাদা করে একটা পরত সৃষ্টি করে, যা খানিকটা বর্মের মতো কাজ করে। ফলে সহজে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয় না। চুলের রুক্ষ-শুষ্ক ভাবও দূর হয়। কিন্তু এই প্রোটিনের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলেই বিপদ। দিনের পর দিন চুলের উপর এই উপাদানের পরত জমতে জমতে চুল ক্রমশ খড়খড়ে হয়ে ওঠে। সেই মসৃণ, নরম ভাবটা আর থাকে না। চুলে ডগা ফাটার সমস্যাও হতে পারে। দুর্বল, জটপড়া চুল আঁচড়াতে গেলে সহজেই ছিঁড়ে যায়। সে দিকটি মাথায় রাখলে, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ— সব কিছুর মধ্যে সমতা রাখাই শ্রেয়।