Bacteria in Cancer Treatment

শরীরে ব্যাক্টেরিয়া ঢুকিয়ে সারানো হবে ক্যানসার! মারণরোগ রোধের নয়া পন্থা আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের

ক্যানসার কোষ ধ্বংস করবে ব্যাক্টেরিয়া! কর্কট রোগের চিকিৎসায় বহু পুরনো ব্যাক্টেরিয়া-থেরাপিকে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৫ ১৪:৫৯
Share:
Bacteria-based therapies could be promising for certain types of cancer

ব্যাক্টেরিয়া-থেরাপি কী? ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন উপায়ের খোঁজ। ফাইল চিত্র।

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার চেষ্টায় আছেন বিজ্ঞানীরা। ক্যানসার বধের অস্ত্র তৈরি হচ্ছে সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়াদের দিয়েই। শরীরে জীবাণু ঢুকিয়ে মারণরোগ সারানোর পন্থা আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব জুড়েই গবেষণা চলছে। ‘নেচার’ সায়েন্স জার্নালে এই নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তা ছাড়া দেশের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ’-এবং ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চ’-এর দু’টি গবেষণাপত্রেও ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যাক্টেরিয়াকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যাক্টেরিয়াকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা আজকের নয়। প্রথম ১৮৬০ সালে আমেরিকার অস্থি চিকিৎসক ও গবেষক উইলিয়াম বি কোল প্রথম ই.কোলাই ব্যাক্টেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে হাড়ের ক্যানসার সারানোর দাবি করেন। শরীরে ব্যাক্টেরিয়া ঢুকিয়ে রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে সক্রিয় করে মারণরোগ সারানোর সেই পন্থাই পরবর্তী কালে 'ইমিউনোথেরাপি' নামে পরিচিতি লাভ করে। কোলকে ‘ইমিউনোথেরাপির জনক’ বলা হত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রেডিয়োথেরাপি ও কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসা পদ্ধতি চলে আসার পর অতি দ্রুত ক্যানসার কোষগুলির বিনাশ করতে এই দুই পদ্ধতির উপরেই ভরসা করতে শুরু করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু ইদানীং ফের মারণরোগ নির্মূল করতে ইমিউনোথেরাপিকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কারণ, কেমো বা রেডিয়োথেরাপির মতো এই পদ্ধতির কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, বিফিডোব্যাক্টেরিয়াম নামে এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া আছে, যেটিকে ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হচ্ছে। ব্যাক্টেরিয়া সরাসরি শরীরে ঢোকালে তার নানা রকম প্রভাব পড়বে। তাই গবেষণাগারে সেই ব্যাক্টেরিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে তবেই শরীরে ঢুকিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা হচ্ছে। গবেষকেরা দাবি করেছেন, ব্যাক্টেরিয়া শরীরে ঢোকামাত্রই শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলি (ইমিউন কোষ) সক্রিয় হয়ে উঠছে, ও টিউমার কোষের বিনাশ ঘটাচ্ছে। হাড়ের ক্যানসার, স্তন ক্যানসার ও ত্বকের ক্যানসার বা মেলানোমা সারাতে এমন চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগ করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

দেখা গিয়েছে, ব্যাক্টেরিয়া এমন এক প্রোটিন তৈরি করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। প্রতিরোধী কোষগুলি তখন সেই প্রোটিনকে নাশ করতেই ছুটে যায় এবং টিউমার কোষকেও ধ্বংস করে।এই পদ্ধতিতে শরীরের সুস্থ কোষগুলির কোনও ক্ষতি হয় না। তবে ক্যানসার রোধে ব্যাক্টেরিয়া-থেরাপির প্রয়োগ মানুষের উপর চলছে। আরও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষার পরেই এই থেরাপি কতটা কার্যকরী হচ্ছে এবং তা সকলের উপর প্রয়োগ করা যাবে কি না, সে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement