মহাভারতের আখ্যান যেন বাস্তবে ফুটে উঠল। ছবি: সংগৃহীত।
শুক্রচার্যের অভিশাপে জরাগ্রস্ত রাজা যযাতি যৌবন হারিয়েছিলেন অকালে। তাই নিজের জরা ছেলেকে দিয়ে পুত্রের কাছে তাঁর যৌবন কামনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কনিষ্ঠ পুত্র পুরু নিজের যৌবন দান করেন পিতা যযাতিকে। মহাভারতের আদি পর্বের এই উপাখ্যান সকলের জানা। মহাকাব্যের পাতায় বর্ণিত সেই ঘটনাই যেন বাস্তবেও ঘটল। তিনিও আজীবন যৌবন ধরে রাখতে চান। তাই ছেলের সঙ্গে প্লাজমা অদলবদল করে নিলেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি আমেরিকায় ব্রায়ান জনসন নামে ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল প্রকাশ্যে এসেছে। ‘জেনারেশনাল ব্লাড সোয়াপিং’ পদ্ধতিতে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কম বয়সের মতো সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন ব্রায়ান।
ব্রায়ান বার্ধক্য চান না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একই রকম থেকে যেতে চান। তার জন্য তিনি ভরসা রেখেছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর। কমবয়সিদের রক্তের প্লাজমা নিজের শরীরে নিতেন। খরচ পড়ত প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে ব্রায়ানের বয়সের চাকা উল্টো দিকে গড়াত।
ব্রায়ানের ছেলে তালমুজ সদ্য কৈশোর পেরিয়েছে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ব্রায়ান জানতে পারেন, তালমুজের রক্তের প্লাজমা যদি তাঁর শরীরে প্রবেশ করানো যায়, তাহলে ৫০-এর কোঠায় পৌঁছেও ব্রায়ান ফিরে যেতে পারবেন কৈশোরে। এ কথা শুনে ব্রায়ান আর দেরি করেননি। ছেলেকে রাজি করিয়ে তাঁর প্লাজমাও নিজের শরীরে প্রবেশ করান।
ব্রায়ান জানিয়েছেন, এই কাজটি করার জন্য ৩০ জন চিকিৎসকের একটি নিজস্ব দল রয়েছে। প্লাজমা দাতা কে হবে, সেটাও ঠিক করেন চিকিৎসকেরাই। তাঁদের পরামর্শেই ছেলের প্লাজমা নিয়েছেন ব্রায়ান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন কারও প্লাজমা যদি পাওয়া যায়, তা হলে তার চেয়ে ভাল কিছু হয় না। ব্রায়ানকে প্রতি বছর এই প্লাজমা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু নিজের ছেলের প্লাজমা নেওয়ায় আপাতত আগামী কয়েক বছর নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন ব্রায়ান।