Cash Recovery Row

বিচারপতি আইন কি ফিরবে, চর্চা ধনখড় উদ্যোগে

দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে তিন-চার বস্তা ভর্তি নগদ টাকা উদ্ধারের পরে মোদী সরকারের অন্দরমহলে ফের আলোচনায় উঠে এল সেই বিচারপতি নিয়োগ আইন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৫ ০৭:৪৫
Share:
জগদীপ ধনখড়।

জগদীপ ধনখড়। —ফাইল চিত্র।

বিচারপতিদের নিয়োগ করবেন বিচারপতিরাই— এই ব্যবস্থা তুলে দিয়ে মোদী সরকার ২০১৪ সালেই জাতীয় বিচারপতি নিয়োগ কমিশন আইন এনেছিল। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সেই বিল পাশও হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেয়।

Advertisement

দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে তিন-চার বস্তা ভর্তি নগদ টাকা উদ্ধারের পরে মোদী সরকারের অন্দরমহলে ফের আলোচনায় উঠে এল সেই বিচারপতি নিয়োগ আইন। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এখন কলেজিয়াম ব্যবস্থায় বিচারপতিদের হাতেই সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। তার বদলে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে নতুন আকারে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

আজ উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় রাজ্যসভার দলনেতা, বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডা ও বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে চেয়ারম্যান জানান, তিনি নড্ডা ও খড়্গের পরামর্শ মতো সব দলনেতাকে বৈঠক ডাকবেন। বিচারপতি বর্মার বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের পরে চেয়ারম্যানই প্রথম বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ওই আইন থাকলে বিচারবিভাগের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যেত।

Advertisement

বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোদী সরকার বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। আজ লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও বলেন, ‘‘দিল্লি হাই কোর্টের এক বিচারপতির বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের পরে, বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের মতামত থাকা উচিত বলে আবহ তৈরি করা হচ্ছে। সংসদের এই কক্ষে যাঁর নাম বলা যাবে না, যিনি পাশের কক্ষে সভাপতিত্ব করেন, তিনি নিজের দু’আনার যোগদান দিয়ে বলেছেন, তাঁর মতে সরকারের উচিত কলেজিয়াম ব্যবস্থা তুলে দেওয়া। এটা বিচারপতি নিয়োগ কমিশন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার শুরু, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।’’ তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সংসদে বিচারপতি নিয়োগ কমিশন আইনে সমর্থন জানিয়েছিলেন। প্রায় সব বিরোধী দলই বিচারপতি নিয়োগে বর্তমান কলেজিয়াম ব্যবস্থায় বদলের পক্ষে। আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যাঁদের হাতে বিচারবিভাগের রাশ, তাঁদের বাড়ি থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে বিচার ব্যবস্থার কী করুণ অবস্থা।’’

বিচারপতি নিয়োগ কমিশন আইনে বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন তৈরি হবে। সেখানে আরও দুই প্রবীণ বিচারপতির সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি থাকবেন। দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাছাই করবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্যানেল। এই কমিশন সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের প্রাথমিক বাছাই করবে। রাষ্ট্রপতি তাঁদের নিয়োগ করবেন। ২০১৪ সালে এই বিল এনে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছিল। অর্ধেক রাজ্য তাতে সিলমোহর দেওয়ার পরে ২০১৫-তে আইন কার্যকর হয়। কিন্তু সে বছরই সুপ্রিম কোর্ট আইনটি খারিজকরে দেয়।

আজ উপরাষ্ট্রপতি ধনখড় ফের বিচারপতি নিয়োগ ব্যবস্থায় বদলের প্রয়োজনীয়তার দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, ‘‘এই কালিমা দূর করতে হবে, যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়।’’ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আদালতের নিজস্ব তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। প্রাথমিক ভাবে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, যে রিপোর্টে বিচারপতির বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পরে তিন-চার বস্তা আধপোড়া নোট উদ্ধারের তথ্য, ছবি ছিল, তা-ও প্রকাশ করা হয়েছে। তার প্রশংসা করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরে এই প্রথম কোনও প্রধান বিচারপতি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ভাবে সমস্ত তথ্য, নথি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।’’ দ্রুততার সঙ্গে প্রধান বিচারপতি যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, তাকেও সঠিক দিকে পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন উপরাষ্ট্রপতি।

সুপ্রিম কোর্ট আজ বিচারপতি বর্মাকে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ প্রকাশ করেছে। কলেজিয়ামের দু’বার বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইলাহাবাদে বিচারপতি হিসেবে কাজ শুরু করার পরে দিল্লি হাই কোর্টে বদলি হয়েছিলেন বিচারপতি বর্মা। কিন্তু ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন আজ দাবি তুলেছে, বিচারপতি বর্মাকে পদ থেকে সরানো বা ‘ইমপিচমেন্ট’-এর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এ বিষয়ে তারা প্রস্তাব পাশ করেছে। আইনজীবীদের মতে, এর পরে বিচারপতি বর্মা আদালতে থাকলে মানুষের আস্থা চলে যাবে। আদালতের অন্তর্তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতির বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডি-র তদন্ত শুরু করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement